লাহোরের ঐতিহাসিক গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার লড়াই কেবল ব্যাটে-বলেই সীমাবদ্ধ থাকল না, রূপ নিল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে। পাকিস্তানি অফস্পিনার উসমান তারিকের ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের প্রকাশ্য বিদ্রূপ এবং তার জবাবে তারিকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘ট্রল’ এখন ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
মাঠে যা ঘটেছিল: গ্রিনের হতাশা ও মিমিক্রি
ম্যাচে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১৯৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল পাকিস্তান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানি বোলারদের দাপটে মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় অজিদের ইনিংস। সফরকারী দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান (৩১ বল) করা ক্যামেরন গ্রিন ১১তম ওভারে উসমান তারিকের স্লিঙ্গা অ্যাকশনের (Slinga Action) শিকার হন। ক্যাচ আউট হওয়ার পর সাজঘরে ফেরার সময় গ্রিনকে দেখা যায় তারিকের বোলিং স্টাইলটি বারবার নকল (Mimicry) করতে।
প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে এবং পরবর্তীতে ডাগআউটে কোচিং স্টাফদের সামনেও তিনি তারিকের বোলিং ভঙ্গি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক অঙ্গভঙ্গি করেন। গ্রিনের অভিব্যক্তিতে এটি স্পষ্ট ছিল যে, তিনি পাকিস্তানি এই স্পিনারের ডেলিভারিটিকে ‘চাকিং’ (Chucking) বা অবৈধ বোলিং অ্যাকশন হিসেবে ইঙ্গিত করছেন। আউট হওয়ার ক্ষোভ এবং অ্যাকশন নিয়ে সংশয়—সব মিলিয়ে অজি তারকার চোখেমুখে ছিল চরম বিরক্তি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারিকের পাল্টা আক্রমণ
ক্যামেরন গ্রিনের এই ব্যঙ্গাত্মক আচরণের জবাব দিতে দেরি করেননি উসমান তারিক। তরুণ এই স্পিনার তার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম (Instagram) স্টোরিতে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে একটি ছোট শিশুকে উচ্চস্বরে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটির ওপর তিনি ক্যাপশন দেন—‘আউট হওয়ার পর’ (After getting out), সঙ্গে জুড়ে দেন একটি হাসির ইমোজি। সরাসরি গ্রিনের নাম না নিলেও, এটি যে অজি অলরাউন্ডারের মাঠের আচরণের দিকেই ইঙ্গিত, তা বুঝতে বাকি নেই নেটিজেনদের। মুহূর্তেই তারিকের এই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়।
বিতর্ক ও বৈধতার লড়াই: উসমান তারিকের অতীত
উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত বছর আইএলটি২০ (ILT20) টুর্নামেন্টে এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে খেলার সময় টম ব্যান্টন প্রথম তার চাকিং নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তারিকের অ্যাকশনে একটি অদ্ভুত বিরতি (Pause) এবং হুট করে স্লিঙ্গা কায়দায় বল ছোঁড়ার ভঙ্গি অনেক ব্যাটারের জন্যই বিভ্রান্তিকর।
তবে এই পাকিস্তানি স্পিনার বরাবরই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে এসেছেন। ক্যারিয়ারে দুবার সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের (Suspect Action) জন্য রিপোর্টেড হলেও প্রতিবারই তিনি ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বছর আইসিসি-স্বীকৃত বায়োমেকানিক্স ল্যাবে (Biomechanics Lab) টানা ২৪টি ডেলিভারি পরীক্ষা করে তিনি বৈধতার সনদ পান। এছাড়া পাকিস্তানেও দুবার অফিশিয়াল ল্যাব টেস্টে তার অ্যাকশন সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটাররা যখন রহস্য স্পিনারদের পড়তে ব্যর্থ হন, তখন প্রায়ই অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে মাঠের সেই লড়াই যখন মিমিক্রি কিংবা ট্রল ভিডিওর পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তা খেলার স্পিরিট বা ‘জেন্টলম্যানস গেম’-এর ওপর প্রশ্ন তুলে দেয়।