• দেশজুড়ে
  • পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রয়োগ: ফলাফলের অপেক্ষায় জামালপুরের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রয়োগ: ফলাফলের অপেক্ষায় জামালপুরের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে শুরু করেছেন জামালপুরের প্রবাসীরা। বিদেশে অবস্থান করেও দেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। ভবিষ্যতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং সব ধরনের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ চান তারা।

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পোস্টাল বিডি অ্যাপে নিবন্ধন করে ব্যালট পেয়ে ভোট দিচ্ছেন প্রবাসীরা। ভোট প্রদান শেষে ব্যালট দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তারা। প্রবাসী ভোটাররা জানান, দেশে প্রার্থীদের খোঁজখবর নিয়েই তারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। প্রবাস থেকে দেশের নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে তারা গর্ব অনুভব করছেন।

জামালপুর-৫ আসনের ভোটার লন্ডনপ্রবাসী আরমানুল হাবিব জিহান বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। আমি আমার ভোটটি দিয়েছি এবং গতকালই সেটি পোস্ট করেছি। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এটি আমার আত্মবিশ্বাস ও কর্তব্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।’

জাপানপ্রবাসী রিশাদ রহমান বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এ বছর ভোট দিতে পেরে আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি।’

তথ্যমতে, জামালপুর জেলায় দেড় লাখের বেশি ভোটার প্রবাসে অবস্থান করলেও পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ১৬ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে অনুমোদন পেয়েছেন ১৬ হাজার ২৫৫ জন। জামালপুর-১ আসনে অনুমোদিত হয়েছেন ২ হাজার ৮২০ জন, জামালপুর-২ আসনে ২ হাজার ২৭ জন, জামালপুর-৩ আসনে ৪ হাজার ৮১৬ জন, জামালপুর-৪ আসনে ২ হাজার ৪৫৫ জন এবং জামালপুর-৫ আসনে অনুমোদিত হয়েছেন ৪ হাজার ১৭৯ জন প্রবাসী ভোটার। নিবন্ধনের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে জামালপুর-৩ আসন এবং সবচেয়ে পিছিয়ে জামালপুর-২ আসন।

শত ব্যস্ততার মাঝেও দেশ-মাতৃকার টানে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাতে পেরে আনন্দিত প্রবাসীরা। তারা জানান, দেশে খোঁজখবর নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তারা গর্বিত।

এদিকে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জটিলতায় প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার জামালপুরের প্রবাসী ভোটার এবার ভোট দিতে পারেননি। সৌদি আরবপ্রবাসী জুয়েল আহম্মেদ বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে বসে এভাবে ভোট দিতে পারব—এটা কখনো ভাবিনি। এজন্য আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। তবে নিবন্ধন বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচার না থাকা এবং প্রক্রিয়া সহজ না হওয়ায় অনেক প্রবাসী ভোটের বাইরে রয়ে গেছে।’

আমেরিকাপ্রবাসী রওজা জান্নাত বলেন, ‘এবার সব প্রবাসী নিবন্ধন করতে পারেনি। আগামীতে যে সরকারই আসুক, আমাদের দাবি—পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হোক এবং এ বিষয়ে প্রচার বাড়ানো হোক।’

লন্ডনপ্রবাসী সৈয়দ শামীম জামান বলেন, ‘আমি চাই, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, প্রবাসীরা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়। পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা দরকার।’