বিদায়ী সরকারের আমলে নেতাকর্মীরা গুম খুনের শিকার হয়েছে, গায়েবি মামলায় গ্রেফতার ও কারাবরণ করেছে, হামলার শিকার হয়েছে। জনতা সেই সরকারকে বিদায় করেছে রাজপথের আন্দোলনে। সে সরকারের সময় ১৬ কোটি মানুষ নিজে ভোট দিতে পারেনি। কথা বলতে পারেনি। আজ সময় এসেছে- অধিকার আদায়ের, অধিকার প্রতিষ্ঠার। মানুষের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপির প্রথম কাজ হবে দেশকে পুনর্গঠন করা। দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে সব পর্যায়ের মানুষকে সঙ্গে নিতে হবে। নারীদের বাইরে রেখে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। খালেদা জিয়া নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করছিলেন। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। তারা নারীদের নিয়ে বাজে ভাষায় মন্তব্য করে। যা মুখে আনা যায় না।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুরে প্রভাতি স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন। ৩৫ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি দেশ পুনর্গঠন, নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নেওয়া, মৃৎ শিল্প কলকারখানা জীবিত করাসহ তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশের মানুষকে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়। পেটের তাগিদে, ভালো জীবন যাপনের জন্য স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীকেও সমানভাবে কাজ করতে হয়। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল চায় নারীদের ঘরবন্দি করে রাখতে। তিনি বলেন, ‘বিবি খাদিজাও (মহানবীর স্ত্রী) ছিলেন ব্যবসায়ী। নারীরা সেই আমল থেকেই এগিয়ে যেতে চেষ্টা করছে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল নারীদের নিয়ে বাজে ভাষায় কথা বলে। নির্বাচনের আগেই তারা অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মান-অপমান অপদস্থ ও হেয় করছে। এরা ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে। অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বাদ রেখে উন্নয়ন সম্ভব না। তাদের নেতারা বলছে আইডি নাকি হ্যাক হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা অসম্ভব। তারা মিথ্যা বলছে, আইডি হ্যাকের নামে এরা মিথ্যা বলছে। যারা নারীদের সম্মান করে না। তারা নিজেদের দলীয় নারী কর্মীদের নারী সদস্যদের মাঠে নামায় কী বলে। এরা কখনও জনদরদী হতে পারে না। অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশ পুনর্গঠন অসম্ভব। আমরা নারীদের এগিয়ে নিতে চাই, বিএনপি নারীদের সামনে রেখে উন্নয়ন করতে চায়, যাতে নারীরা নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারে। একটি দল যারা নারীদের নিয়ে বাজে ভাষায় কথা বলে, সেই দলের নারী সদস্যদের প্রকৃত পরিচয় কি? যে দলের নেতারা নারীদের অসম্মানিত করে। ৭১ সালেও এ দেশবাসী দেখেছে, তারা কীভাবে নারীদের নির্যাতন করেছে। আমরা এ দেশবাসী সেই দলের পরিচয় আগই পেয়েছিল। এখনও পাচ্ছে। যে দলের কাছে নারীরা নিরাপদ না, সে দলের কাছে দেশও নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারে গেলে মৃৎ শিল্প নগরীকে পুনরুদ্ধার করবে। তরুণদের জন্য আইটি পার্ক করবে। কৃষকদের সমস্যা সমাধান করবে। কৃষি কার্ড দিতে চাই। এ কার্ডের মাধ্যমে লোন দেওয়া হবে, বীজ ও সার পাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবো। কর্মসংস্থান, চিকিৎসা, নারীদের এগিয়ে নেওয়া, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সহনশীল করতে পারি তাহলেই বিএনপি সফল হবে। দেশ পুনর্গঠন কাজ এগোবে।
তিনি বলেন, ‘৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর ২০২৪ এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ দেশের স্বাধীনতা রক্ষা হয়েছে। আমরা সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তারেক রহমান বলেন, ‘গত এক যুগ জনগণকে যে বঞ্চনা, যে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, বিএনপি সরকারে গেলে তা হবে না। শান্তিময় দেশ উপহার দেবো।
তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র কিন্তু আবার শুরু করেছে। যারা নারী সমাজকে হেয় করছে, তারাই ষড়যন্ত্র করছে, ছলচাতুরী করছে। আপনাদেরকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। জনগণের সঙ্গে বিএনপির কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে দেশ পরিচালনা করার, সেহেতু বিএনপিই দেশ পরিচালনা করতে পারবে। বিএনপি জানে দেশে কী করে নিরাপদ করতে হয়, বিএনপি জানে কীভাবে দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হয়। বিএনপিই পারে দেশকে গঠন করতে। বিএনপি কাজ করে জনগণের জন্য, দেশ পুনর্গঠনের জন্য। যেকোনও মূল্যে ধানের শীষ বিজয়ী করতে হবে, বিজয়ী করবো। আর সরকার গঠন করে দেশ পুনর্গঠন করবো।