ইরানে ইসলামী বিপ্লবের গৌরবময় ৪৭ বছর পূর্তির প্রাক্কালে শত্রুপক্ষের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ও আধিপত্য বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের সিনিয়র সামরিক কমান্ডাররা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধারের যেকোনো পশ্চিমা প্রচেষ্টা বা ‘ঘৃণ্য চক্রান্ত’ ইরানি জাতির দৃঢ়তার মুখে ব্যর্থ হতে বাধ্য।
আধিপত্য পুনরুদ্ধারের অপচেষ্টা
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইরানি সেনাবাহিনীর সমন্বয়-বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি এক বিশেষ বিবৃতিতে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “যে শত্রুপক্ষ ইরানের ওপর থেকে তাদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও অবৈধ স্বার্থ হারিয়েছে এবং শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে, তারা এখন নতুন কৌশলে এই অঞ্চলে প্রভাব ফিরে পেতে মরিয়া।” সাইয়ারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রুরা এখন পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East) তাদের স্বার্থকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত (Redefine) করতে চাইছে, যা সার্বভৌম ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিপ্লবের মাধ্যমে বৈশ্বিক সমীকরণ পরিবর্তন
৪৭ বছর আগে ১৯৭৯ সালে সংঘটিত ইসলামী বিপ্লবকে বিশ্ব রাজনীতির একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়ারি। তাঁর ভাষ্যমতে, এই বিপ্লব কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল একটি গ্লোবাল প্যারাডাইম শিফট (Global Paradigm Shift)। তিনি বলেন, “ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বৈশ্বিক সমীকরণে (Global Equation) মৌলিক পরিবর্তন এনেছিল। এর ফলে ইরানসহ গোটা অঞ্চলে পশ্চিমা আগ্রাসনের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা ভেঙে পড়ে এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।”
ষড়যন্ত্রের বহুমুখী রূপ ও জাতীয় প্রতিরোধ
শত্রুপক্ষ কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারের (Hybrid Warfare) মাধ্যমে ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। সাইয়ারি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশের অভ্যন্তরে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার মতো হীন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ইরানি জাতির সচেতনতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অসীম সাহসের কারণে এই ধরনের সব ‘নিষ্ফল চক্রান্ত’ বারবার ব্যর্থ হয়েছে।”
অটল অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা
বিপ্লবের আদর্শের প্রতি ইরানিদের অবিচল আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেন, “ভবিষ্যতেও শত্রুদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। কারণ, ইরানি জাতি তাদের ইসলামী বিপ্লবের মূল চেতনা ও আদর্শিক মূল্যবোধ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি।” তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে বাড়তি সতর্কতা (Vigilance) এবং সচেতনতা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ইরানজুড়ে ধুমধাম করে পালন করা হয় ‘দশ দিনব্যাপী ভোর’ (Ten-Day Dawn), যা ইসলামী বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয়ের স্মারক। এবারের উদযাপনে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও জাতীয় সংহতির বিষয়টিই প্রধান্য পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: প্রেস টিভি