• আন্তর্জাতিক
  • পারমাণবিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা

পারমাণবিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূত ইসরায়েল সফর করবেন।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পারমাণবিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা

২০২৫ সালের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ইস্যুতে সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। ব্যাপক উত্তেজনা প্রশমন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

প্রথম সরাসরি যোগাযোগ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই বৈঠকে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। যদিও বৈঠকটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দুই পক্ষই এটিকে সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করছে। এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলে, এটি হবে জুন ২০২৫-এ ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। ওই সময় পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

ইসরায়েল সফর ও সামরিক চাপ

অ্যাক্সিওস আরও জানিয়েছে যে, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ইসরায়েল সফর করতে পারেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি তুরস্কে যাবেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে একটি সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সতর্ক করছে।

আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক

এর আগে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছিল, খুব শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হতে পারে, যদিও সময় ও স্থান নিশ্চিত করা হয়নি। আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ বিদেশে পাঠাতে পারে। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনাগুলো কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে; ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

কঠোর শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান

অন্যদিকে, ইসরায়েলি দৈনিক মারিভ দাবি করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের কাছে আরও কঠোর শর্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাতিল এবং হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা। ইরান অবশ্য এসব শর্ত আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপ্রধান আলী বাঘেরি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকবে না।

Tags: middle east diplomacy geopolitics iran united states nuclear program us-iran-nuclear-talks axios