ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ভোটের বাকি আর মাত্র ৬ দিন। হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ের নির্বাচনী মাঠে এখন শেষ মুহূর্তের উত্তাপ। পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) এবং পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনে প্রার্থীরা দিন-রাত এক করে চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এনসিপির (NCP) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
জুলুম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার ১৬তম দিনে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন সারজিস আলম। জুলাই অভ্যুত্থানের (July Uprising) চেতনাকে ধারণ করে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা যদি সমাজে প্রকৃত শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তবে কোনোভাবেই জুলুমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করে, তারা কখনোই জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”
গত দেড় বছরের চালচিত্র তুলে ধরে সারজিস আরও যোগ করেন, “একটি বিশেষ দলের কিছু নেতাকর্মী শান্তি ও ইনসাফের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে চাঁদাবাজি ও মামলা-বাণিজ্যের মতো অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে লড়াই করা সংগ্রামী জনতা। দু-চারজন চাঁদাবাজকে ভয় পাওয়ার সময় আমাদের নেই।”
নেতৃত্বের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন
যারা এখনও ক্ষমতায় আসেনি কিন্তু এখনই মানুষের ওপর জুলুম শুরু করেছে, তাদের নিয়ে জনতাকে সতর্ক করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় বসার আগেই যারা মানুষকে মানুষ মনে করছে না, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশটাকে নরক বানিয়ে ফেলবে। গত দেড় বছর যারা মামলা-বাণিজ্য করেছে, তারা আপনাদের নেতা হওয়ার যোগ্য নয়। সময় এসেছে এই ধরনের অসাধু ব্যক্তিদের বয়কট করার।”
মাঠে রয়েছেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরও
একই আসনে লড়াই করছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে তিনিও বিরতিহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি শুনছেন মানুষের অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা। পথসভা ও উঠান বৈঠকে নওশাদ জমির একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের অঙ্গীকার করছেন এবং ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
ভোটারদের দোরগোড়ায় উৎসবের আমেজ
পঞ্চগড়ের প্রতিটি গ্রাম ও হাট-বাজারে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পোস্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে চারপাশ। ভোটাররা বলছেন, তারা এমন এক প্রার্থীকে বেছে নিতে চান যারা এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার (Justice) নিশ্চিত করতে পারবে।
তৃণমূলের এই নির্বাচনী লড়াই এখন কেবল ভোট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কার ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের এক অগ্নিপরীক্ষায় রূপ নিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এই উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।