আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘মা, তোমাদের সালাম। মায়েদের যে অবদান তা ভোলার নয়। পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে তারা বলেছেন, “পেছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা।” তারা স্বাধীনতা বেছে নিয়েছেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেবো না। সবগুলো হাতকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করবো। আমাদের তরুণ-তরুণীরা কাজ পাবে। মায়েরাও কাজ পাবে। সেই গতিতেই বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে। যুবকরা তৈরি হয়ে যাও। বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দেবো। এবার আমরা এগিয়ে যাবো। কেউ থামাতে পারবে না। বাধা মানবো না। কোনোভাবে এবার জনতার বিজয় আর ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের চৌকিদার উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা রাষ্ট্রের দায়িত্বে যাবে এই রাষ্ট্রের তারা মালিক নন, তারা এই রাষ্ট্রের চৌকিদার। চৌকিদারের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘একটি দল এবং তাদের লেলিয়ে দেওয়া কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মা-বোনদের, নারীদের গায়ে হাত দিচ্ছে। তারা হুমকি দিচ্ছে, কাপড় খুলে নেবে। নেকাব এবং হিজাব পরে আসলে পুড়ে ফেলবে। তারা বলছে, নারীদের যেখানে পাও পেটাও। লজ্জা, লজ্জা। এরা কী মায়ের পেট থেকে আসে নাই? যদি মায়ের পেট থেকে এসে থাকে তাহলে মায়ের গায়ে হাত দেয় কীভাবে? এ ধরনের বেপরোয়া, বেহায়া কথা বলে কীভাবে তারা।
নিজের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এসব দুষ্টু লোকের দুষ্টুমির প্রতিবাদ করি। এজন্য আমার পেছনে লেগে গেছে। আমার এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে যা তা লিখে চালায় দিয়েছে। এমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাইরে-নাইরে বলে গান শুরু করছে। লজ্জা। ওদের বড় বড় নেতাগুলো একই গান গাওয়া শুরু করলো। কাণ্ডজ্ঞান কোথায়? আমাদের সাইবার টিম ওদের শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। আপনারা দেখেছেন, মেইন কালপ্রিট যে, তাকে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। মেঘ সূর্যকে আড়াল রাখতে পারে না। সত্য এখন মানুষের দ্বোরগোড়ায় এসে বলছে জেগে উঠো। সামনে এগিয়ে যাও। পেছনে তাকানোর সময় নেই।
জামায়াত আমির নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মায়েরা ভয় পাবেন না। আমি জানি আপনারা ভয় পান না। তারপরও আপনাদের সন্তান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আপনাদের শক্তি সাহস জোগানো। আপনারা লড়ে যাবেন, চোখ চোখ রেখে কথা বলবেন। এটা আমার বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনও জমিদার মেনে নেবো না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা কথা দিচ্ছি। আপনাদের আবাসস্থলে, রাস্তাঘাটে চলাচলে, কর্মস্থলে-সব জায়গায় আপনাদের শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই দেশ, যে দেশে আমার মায়ের নিরাপত্তা থাকবে। আমার বোনের, আমার মেয়ের নিরাপত্তা থাকবে। গৃহে এবং কর্মস্থলে চলাচলে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা জাত দেখবো না, ধর্ম দেখবো না। আসমানের নিচে জমিনের ওপরে যারাই নারী জাতির গর্বিত সদস্য তাদের সম্মান করা আমাদের সবচাইতে বড় দায়িত্ব।
কুড়িগ্রাম জেলা দেশের সবচেয়ে অবহেলার শিকার উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ তিন তিনটি নদী। আমাদের নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো চোর। ৫৪ বছরে যতগুলো টাকা নদী শাসনে, নদী ভাঙন রোধে যতগুলো বাজেট হয়েছে সব তাদের পেটে হজম করে নিয়েছে। কাজ করে নাই। কুড়িগ্রামবাসী কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, ওদের মুখের ভেতর দিয়ে হাত পেট পর্যন্ত ঢুকায় সব বের করে আনবো। জনগণের টাকা রাষ্ট্রের তহবিলে জমা হবে। কথা দিচ্ছি, সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা এই কুড়িগ্রাম থেকে আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে। কোনও দাবি জানাতে হবে না। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এরপর যেটা এমন বঞ্চিত জেলা তারপর সেখানে যাবো। বঞ্চিতদের আর কোনও মিছিল করার প্রয়োজন হবে না। উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করবো।’
সভায় জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কুড়িগ্রাম ১, ৩ ও ৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে এসসিপির প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় জামায়াত আমির প্রার্থীতের হাতে প্রতীক তুলে দেন। পরে তিনি লালমনিরহাটের উদ্দেশে রওনা হন।