বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ইশতেহারের মূলভাবনা এবং ভিত্তি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে এই ইশতেহার পাঁচটি মূল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
পাঁচটি স্তম্ভে বিএনপির ইশতেহার ড. মাহদী আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির এই ইশতেহারে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার 'ভিশন ২০৩০' এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ২৭ ও ৩১ দফার ধারাবাহিকতা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই পাঁচটি মূল বিষয় হলো:
১. রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার। ২. বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন। ৩. ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার। ৪. অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন। ৫. ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও জাতীয় সংহতি।
পরিবার ও কৃষকের জন্য যুগান্তকারী কার্ড নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তারেক রহমান এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে পরিবারের নারী সদস্যদের নামে “ফ্যামিলি কার্ড” প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা বা সমপরিমাণ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হবে। একই সাথে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, কৃষিঋণ ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে “কৃষক কার্ড” চালু করা হবে। কৃষকদের সুরক্ষায় আধুনিক কৃষি বীমা ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তারুণ্যের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে 'মিড-ডে মিল' কর্মসূচি এবং সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ, ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ এবং স্কুল, কলেজ ও লাইব্রেরিতে পর্যায়ক্রমে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক সংযোগ পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় 'সার্কুলার ফিউচার মডেল' বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম যেমন পেপাল চালু, এবং বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইবে ও আলিবাবার আঞ্চলিক হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রাধিকার রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি পূর্বঘোষিত 'জুলাই সনদ' ও ৩১ দফা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে নীতি হবে, “অন্যায়কারীর পরিচয় শুধুই অন্যায়কারী।” এছাড়া, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যেতে চায়। বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে দেশ ও জনগণের স্বার্থ এবং মূলনীতি হবে “সবার আগে বাংলাদেশ।” “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন।