নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর নূরপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা ইসলাম রানী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এটি কারো সঙ্গে আপোষ বা বিক্রি হওয়ার ফল নয়, বরং এটি বৈষম্যের প্রতিবাদে নেওয়া একটি দৃঢ় অবস্থান। তাঁর দাবি, হিজড়া সম্প্রদায় যেন সমাজের বোঝা হয়ে না থাকে এবং তাদের প্রান্তিকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
সংরক্ষিত আসনের যৌক্তিকতা ও দাবি
আনোয়ারা ইসলাম রানী তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা নারী জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ব্যবস্থার ফলে নারীরা সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন। কিন্তু ৫০টি সংরক্ষিত আসনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো সংরক্ষিত আসন রাখা হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি নারীদের পাশাপাশি হিজড়া সম্প্রদায়সহ সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবি জানান। তাঁর মতে, সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমেই এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। তিনি তাঁর এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে সংহতি জানাতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে রানীর অবস্থান
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ারা ইসলাম রানী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রায় ২৪ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তাঁর সেই শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বৃহত্তর নীতিগত দাবির কারণে তিনি এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা হ্রাস
রানীর সরে দাঁড়ানোর ফলে রংপুর-৩ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা কমে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এই আসনে এখন যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান, বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল।