আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হচ্ছে সারা দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ‘সাঁড়াশি অভিযান’ শুরু করেছে যৌথ বাহিনী (Joint Forces)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে উখিয়ার বালুখালী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। অভিযান এখনও চলমান থাকায় আটকের সংখ্যা দ্রুতই এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্যাম্পের বাইরে অবৈধ বসতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী উখিয়ার নির্ধারিত ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে বাইরে স্থানীয়দের জমি দখল করে অথবা ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা ক্যাম্পের বাইরের জনজীবনে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে (National Election) সামনে রেখে এই বিপুল সংখ্যক অনিয়ন্ত্রিত রোহিঙ্গাকে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
ভোররাত থেকে বালুখালীতে চিরুনি তল্লাশি
সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী রোববার ভোরে বালুখালী এলাকায় ঘিরে ফেলে। সেখানে বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে চলে ‘Combing Operation’ বা চিরুনি তল্লাশি। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণের কারণে স্থানীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। রোববারের এই বিশেষ অভিযানকে সেই অসন্তোষের অবসান ও নির্বাচনী ‘Security Protocol’ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী নাশকতার আশঙ্কা ও গোয়েন্দা সতর্কতা
সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘Law and Order’ পরিস্থিতির অবনতি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। আটককৃত রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে পুনরায় নির্ধারিত ক্যাম্পগুলোতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি ও পূর্ববর্তী তৎপরতা
উল্লেখ্য, এর আগেও চট্টগ্রামের দোহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক দফায় বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছিল যৌথ বাহিনী। তবে উখিয়ার বালুখালীতে রোববারের এই অভিযানটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবথেকে বড় এবং প্রভাব বিস্তারকারী। অভিযানে কোনো ধরনের বাধা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি; তবে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ব্যাপক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
কক্সবাজারের স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের অভিযান ‘Crime Control’ বা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য ক্যাম্পের সীমানা প্রাচীর আরও সুরক্ষিত করা এবং ‘Operational Activity’ নিয়মিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।