রাজশাহীর বাগমারায় গভীর রাতে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রের বড় একটি চালান উদ্ধার করেছে র্যাব-৫। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে এলাকায় বড় ধরনের কোনো নাশকতা (Sabotage) কিংবা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এসব মারণাস্ত্র মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গভীর রাতের সাড়াঁশি অভিযান র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫-এর রাজশাহী সিপিএসসির একটি চৌকস দল বাগমারার বইকুড়ি সরদারপাড়া এলাকায় অভিযানে নামে। জনমানবহীন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মারণাস্ত্রের এই বিশাল মজুত খুঁজে পায় আভিযানিক দলটি। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের সাফল্য ও বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আনা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের খতিয়ান উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় দেখা গেছে হরেক রকমের দেশীয় অস্ত্রের সমাহার, যা জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। মোট ৫৬টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে:
১৬টি ধারালো ছুরি
৪টি বড় চাপাতি (Machetes)
৪টি হাসুয়া
৩২টি কুঠার সদৃশ ভয়াবহ টাঙ্গি
অভিযান শেষে জব্দকৃত এসব সরঞ্জাম প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাগমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নাশকতার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান র্যাব কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচনের আগে স্পর্শকাতর সময়ে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ব্যাহত করতে কিংবা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর প্রভাব বলয় তৈরি করতে এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এই বিপুল অস্ত্র মজুতের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং এর প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড কারা, তা শনাক্ত করতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা (Intelligence Activities) জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
রাজশাহী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাব ও পুলিশের সমন্বিত টহল বাড়ানো হয়েছে। এই অস্ত্র উদ্ধারকে সাধারণ ভোটাররা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।