• জাতীয়
  • মেয়াদের স্বল্পতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগ আসেনি: জ্বালানি উপদেষ্টা

মেয়াদের স্বল্পতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগ আসেনি: জ্বালানি উপদেষ্টা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
মেয়াদের স্বল্পতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগ আসেনি: জ্বালানি উপদেষ্টা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ও বড় বিনিয়োগের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের স্বল্পতাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

তিনি জানিয়েছেন, সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বড় কোনও প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখায়নি।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে জ্বালানি বিভাগের পাঁচটি নতুন অ্যাপ উদ্বোধন এবং খসড়া ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা ২০২৬’ (ইপিএসএমপি) পর্যালোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনও বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। এই খাতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এই সরকারের মেয়াদ কম হওয়ায় অনেক বিনিয়োগ আসেনি। তিনি জানান, সৌদি আরবের রাজপরিবারের এক সদস্য বিনিয়োগ আলোচনার সময় সরকারের মেয়াদ জানতে চেয়েছিলেন। মেয়াদ আরও দীর্ঘ হলে সেই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হতে পারতো। ফলে আরেকটি প্রয়োজনীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন করাও সম্ভব হয়নি।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন সেগুলোর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনের। এ জন্য একটি জাতীয় কমিটি ও একটি ট্যারিফ কমিটি গঠন করে বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরবর্তী সরকার বিবেচনা করবে।”

বিদেশি কোম্পানির বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “বকেয়া না পেলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। সে কারণেই অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়।”

বিগত সরকারের সময়ে দেওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো নিয়ে তিনি বলেন, “এসব প্রকল্পের কোনওটিরই ক্যাবিনেট কমিটির অনুমোদন ছিল না। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্পগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনই দেওয়া হয়নি।”

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইচ্ছামতো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করা যায় না। সরকার নিজের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করছে এমন বার্তা দিতেও চায়নি। সে কারণেই একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

নিজের সম্পদের হিসাব প্রসঙ্গেও কথা বলেন ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, “আমি সম্পদের বিবরণ জমা দিয়েছি এবং ব্যক্তিগত কোনও অভিলাষ নেই।” একটি গাড়ি বিক্রি করায় বর্তমানে সম্পদ কিছুটা বেড়েছে, তবে দায়িত্ব শেষে আবার গাড়ি কিনলে সেটি কমে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tags: বিনিয়োগ বিদ্যুৎ জ্বালানি উপদেষ্টা মেয়াদ স্বল্পতায় জ্বালানি খাত