• খেলা
  • ভারত-পাক ম্যাচ নিশ্চিত, শাস্তিমুক্ত বিসিবি: আইসিসির সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশের

ভারত-পাক ম্যাচ নিশ্চিত, শাস্তিমুক্ত বিসিবি: আইসিসির সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশের

খেলা ১ মিনিট পড়া
ভারত-পাক ম্যাচ নিশ্চিত, শাস্তিমুক্ত বিসিবি: আইসিসির সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশের

৬ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি এড়াতে নতিস্বীকার আইসিসির; ২০৩১ সালের আগে আরও একটি মেগা ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) মধ্যকার নজিরবিহীন স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটেছে। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ—ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এই ম্যাচ খেলার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এই সমঝোতার নেপথ্যে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি এবং আইসিসির পক্ষ থেকে বড় ধরনের ছাড়।

সংকটের সূত্রপাত: মোস্তাফিজ ও আইপিএল বিতর্ক এই টানাপোড়েনের মূলে ছিল বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সৃষ্ট এক জটিলতা। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (BCCI) প্রচ্ছন্ন নির্দেশনায় আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দিলে ক্ষুব্ধ হয় বিসিবি। প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার (Broadcasting) নিষিদ্ধ করা হয় এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ।

আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। ঠিক এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’র প্রতিবাদে পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেয়, যা ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেয়।

৬ হাজার কোটি টাকার ঝুঁকি ও আইসিসির পিছুটান ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিপুল অংকের বিজ্ঞাপন এবং সম্প্রচার স্বত্ব (Broadcasting Rights) থেকে আসা আয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল Revenue Loss এড়াতে আইসিসি শেষ পর্যন্ত বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে সমঝোতায় বসতে বাধ্য হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সেই ত্রিদেশীয় বৈঠকেই সংকটের সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে।

সমঝোতার পর বাংলাদেশ যা যা পাচ্ছে যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আর সম্ভব হচ্ছে না, তবে কূটনৈতিক লড়াইয়ে বিসিবি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা আদায় করে নিয়েছে:

শাস্তি ও জরিমানা থেকে রেহাই: সাধারণত কোনো দেশ পূর্বনির্ধারিত টুর্নামেন্ট বর্জন করলে আইসিসি কঠোর প্রশাসনিক বা আর্থিক জরিমানা (Financial Penalty) আরোপ করে। তবে এই সমঝোতার ফলে বিসিবির ওপর কোনো ধরনের শাস্তি কার্যকর হবে না। এমনকি ভবিষ্যতে কোনো আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজন হলে বিসিবি আইসিসির ‘ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি’র (DRC) দ্বারস্থ হওয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করবে।

২০২৮-২০৩১ এর মধ্যে নতুন ইভেন্ট আয়োজন: ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ আগেই নির্ধারিত ছিল। তবে নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ আরও একটি আইসিসি গ্লোবাল ইভেন্ট (যেমন: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ) এককভাবে আয়োজন করার সুযোগ পাবে।

বাজার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ: বাংলাদেশের ২০০ মিলিয়নের বেশি ক্রিকেট ভক্তের বাজারকে আইসিসি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক হলেও দেশটির ক্রিকেট অবকাঠামো এবং খেলোয়াড়দের টেকসই উন্নয়নে আইসিসি তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

ক্রিকেট কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায় আইসিসির এই নমনীয় অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক সমীকরণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন আর উপেক্ষা করার মতো শক্তি নয়। বিসিবির কঠোর অবস্থান আইসিসিকে তাদের পলিসি রিভিজিট করতে বাধ্য করেছে।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। যদিও মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এবার অনুপস্থিত থাকছে, তবে টেবিলের লড়াইয়ে বিসিবি যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

Tags: pakistan cricket t20 world cup india vs pakistan bcb update cricket diplomacy icc news cricket business hosting rights sports revenue