বাগেরহাট জেলা শহরে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বড় ধরণের নাশকতার ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শহরের কাঠেরপোল (হাড়িখালি) এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬টি শক্তিশালী ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
গভীর রাতের রুদ্ধশ্বাস অভিযান ও মাটির নিচে লুকানো বিস্ফোরক
যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট কিছু গোয়েন্দা তথ্যের (Intelligence) ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর ২৩ আরই (23 RE) ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি বিশেষ দল হাড়িখালি সুইচগেট এলাকায় অভিযানে নামে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তল্লাশি চলাকালীন একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশে সদ্য খোঁড়া মাটির চিহ্ন দেখতে পান আভিযানিক দলের সদস্যরা। সেখানে মাটি খুঁড়তেই একটি প্লাস্টিক বালতির ভেতর থেকে একে একে ৬টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।
নিষ্ক্রিয়করণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security Protocol)
উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মাসুম খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরকগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। র্যাবের একটি বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল (Bomb Disposal) টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ককটেলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরাপদ স্থানে নিষ্ক্রিয় করা হবে।
এই ঘটনার পর থেকে কাঠেরপুল ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভয় দেওয়া হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় ওই এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা
কারা বা কোনো গোষ্ঠী নাশকতার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরকগুলো মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় সোর্স এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে যৌথ বাহিনীর এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল উদ্ধারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাগেরহাটের এই উদ্ধার অভিযানকে নাশকতাবিরোধী লড়াইয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।