• আন্তর্জাতিক
  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা: ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা: ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা: ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা; পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক আকাশে নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী এক দীর্ঘমেয়াদি ও জোরালো সামরিক অভিযান (Military Operation) চালানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য দুই সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। এবারের পরিকল্পনাটি গত কয়েক দশকের যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রণসজ্জায় যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক উপস্থিতি পেন্টাগন (Pentagon) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আসন্ন এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জোরদার করেছে মার্কিন প্রশাসন। ইতিমধ্যে সেখানে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier) পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার অতিরিক্ত পদাতিক সেনা, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার (Guided-missile Destroyer) মোতায়েন করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আত্মরক্ষামূলক কোনো সজ্জা নয়, বরং একটি বড় মাপের ‘অফেনসিভ অ্যাটাক’ বা আক্রমণাত্মক অভিযানের ইঙ্গিত।

‘ভয় দেখানোই কার্যকর উপায়’: ট্রাম্পের অকপট বার্তা সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলিনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রতি তাঁর কঠোর মনোভাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। কখনও কখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভয় দেখানোই একমাত্র কার্যকর উপায় হয়ে দাঁড়ায়।” হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অল অপশনস অন দ্য টেবিল’ (All options on the table) অর্থাৎ সব পথই খোলা রেখেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দ্বিধা করবেন না।

কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও পারমাণবিক অস্থিরতা গত সপ্তাহে ওমানের মাসকাটে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা নয়, বরং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূলে আঘাত হানা।

‘মিডনাইট হ্যামার’ থেকে আরও জটিল অভিযানের ছক গত জুন মাসে ‘মিডনাইট হ্যামার’ (Midnight Hammer) নামক একটি সীমিত অভিযানে মার্কিন স্টেলথ বোমারু বিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছিল। তার জবাবে ইরান কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিকল্পনাটি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং বিস্তৃত। এবার কেবল আকাশপথ নয়, বরং নৌ ও স্থলভাগের সমন্বয়ে ইরানের অভ্যন্তরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলার মতো হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, রণক্ষেত্রে মোতায়েন করা সমরাস্ত্রের ধরণ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এবার কোনো ছোটখাটো সংঘর্ষের জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার মতো এক দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।

Tags: middle east donald trump international relations global security military operation nuclear program us iran pentagon news aircraft carrier war preparations