৬১ হাজার ৭৮৬ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এবার তাকে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দেখতে চায় ঈশ্বরগঞ্জবাসী। এ নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষে ‘তারুণ্যের মেধা ও ত্যাগের মূল্যায়নে একটি খোলা চিঠি’ শিরোনামে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন ইশতিয়াক আহমেদ ইসহাক।
খোলা চিঠিটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, শ্রদ্ধেয় নেতা, বিপ্লব ও সংহতির এই নতুন বাংলাদেশে আপনাকে জানাই ঈশ্বরগঞ্জবাসীর পাক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও সালাম। দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আপনার নেতৃত্বে দেশ আজ যে মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করছে, তার শরিক হতে পেরে আমরা গর্বিত। আপনি জানেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে বরাবরই অবহেলিত। দীর্ঘ সময় এ অঞ্চলে বহিরাগত প্রতিনিধিরা সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মৌলিক অধিকার ও উন্নয়ন বারবার থমকে দাঁড়িয়েছে। কেবল ২০০১-২০০৬ মেয়াদে যখন এ মাটির সন্তান জনাব শাহ নূরুল কবির শাহিন এমপি ছিলেন, তখন ঈশ্বরগঞ্জবাসী উন্নয়নের মুখ দেখেছিল। সেই স্মৃতি আজও আমাদের হৃদয়ে অম্লান। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ঈশ্বরগঞ্জের মানুষ এবার তাদের আপন সন্তান, আয়নাঘরে নির্যাতন সহ্য করা অকুতোভয় লড়াকু সৈনিক প্রকৌশলী জনাব লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করেছে। তিনি কেবল একজন দক্ষ সংগঠকই নন, বরং তারুণ্যের মেধা ও প্রজ্ঞার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন প্রকৌশলী হিসেবে তার কারিগরি জ্ঞান এবং একজন নির্যাতিত নেতা হিসেবে তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব আজ তাকে জনবান্ধব নেতার উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের বিনীত চাওয়া-ঈশ্বরগঞ্জ তথা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, কারিগরি উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক। তার মতো মেধাবী ও দূরদর্শী মানুষকে যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় কিংবা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তবে আমরা বিশ্বাস করি তার প্রজ্ঞা ও মেধা ঈশ্বরগঞ্জ ছাড়িয়ে সারা দেশের উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে এবং মাজেদ বাবুর মতো মেধাবীদের কর্মতৎপরতায় বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এ বিষয়ে ইশতিয়াক আহমেদ ইসহাক বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার একজন সাধারণ নাগরিক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষে আমি দলের চেয়ারম্যানের কাছে এই চিঠি লিখেছি।’
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৫ ভোট। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থিতায় ভোটযুদ্ধে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এলডিপির প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল। তিনি ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১৫ ভোট। এ ছাড়াও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীন ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭৩৪ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও তিনবারের সাবেক এমপি ফখরুল ইমাম মাত্র ১ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়েছেন। এতে বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে নিকটতম প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৬১ হাজার ৭৮৬ ভোট।