ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরে এক অত্যন্ত গোপনীয় ও দুঃসাহসিক অভিযানে ১১ জন বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে বুধওয়ার পেথ এলাকার কুখ্যাত যৌনপল্লিতে এই বড় ধরনের তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধারকৃত নারীরা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
অভিযানের নেপথ্য ও প্রেক্ষাপট ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনে সিটি পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রায় এক মাস আগে পুনের এই যৌনপল্লি থেকেই জনৈক বাংলাদেশি নারী একজন পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই ঘটনার রেশ ধরে এবং Human Trafficking বা নারী পাচার রোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এক অভিযানে আরও দুজন বাংলাদেশি নারী এবং বেশ কয়েকজন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি পুলিশের দ্বিতীয় বড় সাফল্য।
গভীর রাতে ৭০০ পুলিশের সাঁড়াশি তল্লাশি বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপপুলিশ কমিশনার (Zone-1) ঋষিকেশ রাওয়ালের নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অংশ নেন অন্তত ৭০০ জন প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যের এক বিশাল বাহিনী। বুধওয়ার পেথের প্রতিটি অলিগলি এবং সন্দেহভাজন ভবনগুলো ঘিরে ফেলে তারা। মূলত অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক এবং জোরপূর্বক আটকে রাখা নাবালিকাদের সন্ধান করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে ১১ জন বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পুনের পুলিশ কমিশনার অমিতেশ কুমার এই অভিযানের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, যেসব ভবন বা যৌনপল্লিতে বাংলাদেশি নারীদের অবৈধভাবে রাখা হয়েছিল, সেই ভবনগুলো দ্রুত সিল (Seal) করে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন বা ‘Immoral Traffic (Prevention) Act’ (PITA)-এর অধীনে মামলা করা হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, "আমরা উদ্ধারকৃত নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। বর্তমানে তাদের নিজ দেশে অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় Repatriation বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই পাচার চক্রের সাথে স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো মাফিয়া জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।"
উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নারী পাচার ক্রস-বর্ডার অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভূয়া নথিপত্র তৈরি করে বাংলাদেশি নারীদের ভারতে পাচার করার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। পুনে পুলিশের এই বিশেষ ড্রাইভ বা অভিযান সেই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। এই ঘটনার পর পুনেসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অন্যান্য যৌনপল্লিগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উদ্ধারকৃত নারীদের বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের মানসিক সহায়তার জন্য Counselors-দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হলেই আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।