• দেশজুড়ে
  • রংপুরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ ভিড়

রংপুরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ ভিড়

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রংপুরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ ভিড়

শাকিল আহমেদ, রংপুর

রংপুরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সর্বস্তরের মানুষ।

এর আগে রাত ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে আসা হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। শহীদ মিনার চত্বরসহ আশপাশের সড়কে নামে মানুষের ঢল। এ সময় বাজছিল অমর একুশের কালজয়ী গান, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।

পরে রাত ১২টা এক মিনিট থেকে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান বেলাল, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। পরে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল সেখানে দাঁড়িয়ে দোয়া মোনাজাত করেন।

তারপর একে একে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

এছাড়া, রংপুর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রংপুর। ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সিটি প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

এদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এক ঘণ্টার ব্যবধানে রাতের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ফুলে ভরে উঠে শহীদ মিনার।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ জানান, ১৯৫২ সালের এই দিনে শহীদদের শাণিত ধারায় যে আলোকিত পথের উন্মোচন ঘটেছিল, সেই পথ ধরে এসেছিল স্বাধীনতা। ভাষা সংগ্রামের দীর্ঘ ৭৪ বছর পরও সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া দুঃখজনক। আদালতের রায় থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন এবং সাইনবোর্ডে লেখা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান তারা।

রাজনৈতিক সংগঠকরা জানান, ১৯৫২ সালের এই দিনে বাঙালির মায়ের ভাষা বাংলা ভাষার জন্য ঢাকার রাজপথে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো বাংলার বীর সন্তানরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আত্মোৎস্বর্গ করেছিলেন। আমরা শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান শহীদ দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে। তবে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অমর একুশে এখন পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।