• আন্তর্জাতিক
  • রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা: লক্ষ্য কি ছিল সিআইএ স্টেশন? মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা: লক্ষ্য কি ছিল সিআইএ স্টেশন? মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা: লক্ষ্য কি ছিল সিআইএ স্টেশন? মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য; দূতাবাসের ছাদে ধস ও অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির খবর, তেহরানের দিকে সন্দেহের তির।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ মার্চ) গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলায় দূতাবাসের অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'CIA'-এর একটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। গত শনিবার ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার পর এই পাল্টা ড্রোন হামলাকে তেহরানের 'প্রক্সি' জবাব হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

রক্ষণব্যুহ চিরে রিয়াদে ড্রোন হানা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের অত্যন্ত সুরক্ষিত দূতাবাস কমপ্লেক্সে অন্তত দুটি ড্রোন বা 'UAV' (Unmanned Aerial Vehicle) আঘাত হানে। যদিও ওয়াশিংটন বা রিয়াদ প্রশাসন এই হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে একটি উচ্চপদস্থ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ড্রোনগুলোর মূল টার্গেট ছিল দূতাবাসের ভেতরে অবস্থিত সিআইএ স্টেশন বা তথাকথিত 'Spy Hub'। তবে ওই স্টেশনটিই একমাত্র লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র: ধসে পড়েছে দূতাবাসের ছাদ মার্কিন 'State Department' বা পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রাপ্ত একটি গোপনীয় সতর্কবার্তা বিশ্লেষণ করে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ড্রোন বিস্ফোরণের আঘাতে দূতাবাস ভবনের ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। বিস্ফোরণ পরবর্তী ধোঁয়ায় দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক ছিল যে, দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান নিতে ('Shelter-in-place') নির্দেশ দেওয়া হয়। কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মার্কিন প্রশাসন।

নেপথ্যে কি তেহরান? দানা বাঁধছে সন্দেহ গত শনিবার ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে উত্তজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, এই হামলার ধরনে ইরানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বরাবরের মতোই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সিআইএ কর্তৃপক্ষ। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই হামলাটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর একটি পরোক্ষ হুঁশিয়ারি।

বন্ধ কনস্যুলেট সেবা, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি হামলার পরপরই সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশন এক জরুরি 'Security Alert' জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার থেকে দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সব ধরনের রুটিন এবং জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।

সৌদি আরবের ধাহরান এলাকায় আরও ক্ষেপণাস্ত্র এবং 'UAV' হামলার প্রবল হুমকি রয়েছে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন মিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ‘ধাহরানের মার্কিন কনস্যুলেটে এখন কেউ আসবেন না।’

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার এই ঘটনা নতুন কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়াদের এই ড্রোন হামলা কেবল একটি ভবনে আঘাত নয়, বরং ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা তৎপরতার মূলে এক বড় আঘাত হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Tags: drone strike riyadh attack cia station