• জাতীয়
  • লালমনিরহাটে ৩৯ লাখ টাকার মাদকের ‘চিতা’: আদালত চত্বরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ কসমেটিকস ও নেশাদ্রব্য

লালমনিরহাটে ৩৯ লাখ টাকার মাদকের ‘চিতা’: আদালত চত্বরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ কসমেটিকস ও নেশাদ্রব্য

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
লালমনিরহাটে ৩৯ লাখ টাকার মাদকের ‘চিতা’: আদালত চত্বরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলো বিপুল পরিমাণ অবৈধ কসমেটিকস ও নেশাদ্রব্য

৩৯টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে আদালতের নির্দেশে জনসম্মুখে ভস্মীভূত করা হলো বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ফেনসিডিল ও নিষিদ্ধ সিরাপ; মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কঠোর বাস্তবায়ন।

মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে লালমনিরহাট আদালত চত্বরে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে লালমনিরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে ভস্মীভূত করা হয়েছে প্রায় ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাজারমূল্যের অবৈধ মাদক এবং সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা মানহীন কসমেটিকস সামগ্রী। আদালতের নির্দেশনায় এই ধ্বংসকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

অভিযানের ফলশ্রুতি ও ৩৯ মামলার নিষ্পত্তি

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি থানায় বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষে মোট ৩৯টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী, মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর জব্দকৃত আলামত বা ‘Evidence’ জনসম্মুখে ধ্বংস করার বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ বিকেলে বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। লালমনিরহাটের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জব্দকৃত মালের বিবরণ ও বাজারমূল্য

ধ্বংস করা মাদকের তালিকায় ছিল আঁতকে ওঠার মতো বিপুল পরিমাণ নেশাদ্রব্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৮০ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ৪১৩ বোতল ফেনসিডিল এবং ২ হাজার ৩৪৯ বোতল নিষিদ্ধ ইস্কাপ (Escap) সিরাপ। এছাড়াও তালিকায় ছিল বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল (Tapentadol) ট্যাবলেট এবং চোরাপথে আসা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অবৈধ কসমেটিকস সামগ্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংসকৃত এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি।

জিরো টলারেন্স ও বিচারিক তদারকি

মাদক পাচার ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, জব্দকৃত মাদক জনসম্মুখে ধ্বংস করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং অপরাধীদের একটি কড়া বার্তা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

সমগ্র ধ্বংসকরণ প্রক্রিয়াটি সরাসরি তদারকি করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব মিয়া। এ সময় জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক আমিরুল ইসলামসহ আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আদালত প্রশাসন।

Tags: zero tolerance bangladesh court legal process drug seizure narcotics control drug destruction lalmonirhat court illegal cosmetics judicial magistrate police news