জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন দেশের প্রখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক হানিফ সংকেত। সংস্কৃতি অঙ্গনে অনন্য অবদানের জন্য এই গৌরবোজ্জ্বল স্বীকৃতি ঘোষণার পর এক আবেগঘন বার্তায় তিনি এই অর্জনকে তাঁর কোটি ভক্ত ও দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে (Social Media) একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর সেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসতে থাকেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব।
দর্শকদের ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ পুরস্কার
হানিফ সংকেত তাঁর বার্তায় শুরুতেই বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ বছর আমাকে সংস্কৃতিতে ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত করেছেন। এই অর্জন আমার একার নয়—যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে, এই অর্জন তাদের সবার।”
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বিনোদন জগতে সুস্থ ধারার চর্চাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন হানিফ সংকেত। তাঁর জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য দলিলে পরিণত হয়েছে। আর তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন সাধারণ মানুষকেই। তিনি আরও যোগ করেন, “এই পুরস্কার আমি আমার লক্ষ-কোটি দর্শকের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।”
সুস্থ সংস্কৃতির মাধ্যমে আলোকিত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার
বর্তমান ডিজিটাল যুগে অপসংস্কৃতির ভিড়ে হানিফ সংকেত সবসময়ই সুস্থ সংস্কৃতির সপক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। পুরস্কার প্রাপ্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণেও তিনি তাঁর সেই মূল দর্শনের (Core Philosophy) কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে।”
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা তাঁর দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমৃত্যু সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও দেশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “অতীতেও আমি যেমন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাব। এই পুরস্কার আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করবে।”
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি অনন্য মাইলফলক
উল্লেখ্য, হানিফ সংকেতের হাত ধরে বাংলাদেশের টেলিভিশন মিডিয়ায় ‘ম্যাস কমিউনিকেশন’ (Mass Communication) এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রতিভা তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিকে দেশের সাংস্কৃতিক কর্মীরা একটি ‘পজিটিভ সিগন্যাল’ (Positive Signal) হিসেবে দেখছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ঘোষিত তালিকায় এ বছর সংস্কৃতিতে হানিফ সংকেতের পাশাপাশি মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ। শিগগিরই এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের হাতে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেয়া হবে।