• জাতীয়
  • ‘মব’ নির্মূলে কঠোর সরকার, স্বস্তিতে দিনযাপনে আশায় বুক বাঁধছে মানুষ

‘মব’ নির্মূলে কঠোর সরকার, স্বস্তিতে দিনযাপনে আশায় বুক বাঁধছে মানুষ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘মব’ নির্মূলে কঠোর সরকার, স্বস্তিতে দিনযাপনে আশায় বুক বাঁধছে মানুষ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর দেশের দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘মব’ (দলবদ্ধ সন্ত্রাস) এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করে সমাজে।

প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে মবের ঘটনা জনমানসে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

ফলে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার গঠন করা বিএনপি আইনশৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি ‘মব’ নির্মূলে কঠোর বার্তা দেয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের এ বার্তা মাঠ পর্যায়েও প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে ‘মব’ সন্ত্রাস ও আতঙ্কের পরিবেশ অনেকটাই কমে এসেছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। পুলিশের কঠোর অবস্থান ও সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপে মানুষ এখন আগের চেয়ে স্বস্তি অনুভব করছে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। ফলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দের মধ্যেই উদযাপন করবেন বলে আশা করছেন অনেকে। অনেকের ভাষ্য, স্বৈরাচারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানুষ নিশ্চিন্তে দিন কাটানোর আশা করলেও সেসময় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ‘মব’।

এর প্রভাব দেখা যায় ঈদের আগে-পরেও। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন তারা। নির্বাচিত সরকার থাকায় মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কাটতে শুরু করেছে এবং মব সন্ত্রাসের ঘটনাও দৃশ্যত কমে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। ফলে এবার ঈদ পরিবার-পরিজনকে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে কাটানোর প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষ যেন ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেটে মানুষের নিরাপদ কেনাকাটা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বাস, রেল ও লঞ্চ টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে টহল জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শপিংমল, বাজার, বাস-রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও টার্মিনাল এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, নতুন সরকার, নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নতুন আইজিপির নির্দেশনায় পুলিশ আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের ঘটনা ঘটলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে ও পরে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় কিছু মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা কিছুটা বেড়েছে। দলীয় কোন্দল ও আন্তঃদলীয় সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ১ হাজার ৯৩৩ জন আহত হয়েছেন।

তবে সংস্থাটির প্রতিবেদনে ফেব্রুয়ারি মাসে ‘মব’ সহিংসতার কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের কঠোর বার্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর মানুষ কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন। প্রিন্টিং প্রেস ব্যবসায়ী খালেকুজ্জামান বলেন, আগে মানুষ মব সন্ত্রাসের আতঙ্কে ছিল। এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। তাই এবার ঈদ হবে নিরাপদ ও আনন্দময়—এমনটাই আশা করছেন তিনি।

কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীও জানান, গত বছরের ঈদে নতুন পোশাক পেলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবার তাদের বাইরে যেতে দেয়নি। তবে এবার পরিবারের সদস্যরাই ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশে কোনোভাবেই মব কালচার সহ্য করা হবে না।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মব কালচার বন্ধ করতে হবে। দাবি-দাওয়া থাকলে তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্থাপন করতে হবে। মিছিল-সমাবেশ করা যাবে, তবে দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বন্ধ করা বা সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এমন কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার ফলে ক্রমান্বয়ে দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসছে। আর সে কারণেই মানুষ এবার স্বস্তি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Tags: সরকার কঠোর মব নির্মূলে স্বস্তিতে দিনযাপন আশায় বুক বাঁধছে মানুষ