বান্দরবানের প্রাণঘন জলের পথ সাঙ্গু নদী আজ মৃতপ্রায়। পাহাড়ি ঝিরি-নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন, পাহাড় কেটে আবাসন, নগরায়ন, বৃক্ষ নিধন ও জুমের আবাদ নদীর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায়, বর্ষা মৌসুমে ঢলে নদী ভাঙণ বেড়ে প্লাবিত এলাকা বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকত, জলজ প্রাণীও ছিল। নদীর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করত কয়েক হাজার জেলে। এখন জীবিকার তাগিদে অধিকাংশ জেলে পেশা ছাড়ছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সাঙ্গু নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নদীটি রক্ষার জন্য সুরক্ষা ও ক্ষণণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রবহমান পাহাড়ি নদী সাঙ্গু আজ ধীরে ধীরে মরা খালের রূপ নিয়েছে। একসময় স্বচ্ছ জলধারা আর প্রবল স্রোতের জন্য পরিচিত এই নদী এখন নাব্য সংকটে। বান্দরবান সদর, থানচি ও রুমা উপজেলার বিভিন্ন অংশে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির প্রবাহ কমেছে, আর এতে জীবনযাত্রায় নেমেছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী থানচি মদক এলাকার পান ঝিরি থেকে জন্ম নিত এই নদী। পাহাড়ের অসংখ্য ঝিরি ঝরনার পানি মিশে নদীটি প্রায় ১৭০ কিলোমিটার অতিক্রম করে চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। যুগের পর যুগ ধরে নদীর তীরে গড়ে উঠেছে বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ। কিন্তু ক্রমাগত পাহাড়ি ঝিরি-নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলন, পাহাড় কেটে আবাসন, নগরায়ন, বৃক্ষ নিধন ও জুমের আবাদ নদীর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায়, বর্ষা মৌসুমে ঢলে নদী ভাঙণ বেড়ে প্লাবিত এলাকা বাড়ছে।
বান্দরবান সদরের জগদ্বীশ জল দাস বলেন, “একসময় এই নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকত, জলজ প্রাণীও ছিল। নদীর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করত কয়েক হাজার জেলে। এখন জীবিকার তাগিদে অধিকাংশ জেলে পেশা ছাড়ছে। বর্তমানে নদী নির্ভর ৫০-৬০ জন জেলেকেও পাওয়া মুশকিল।”
ক্যাচিং ঘাটা এলাকার নৌকা চালক জসীম উদ্দীন বলেন, “একসময় ইঞ্জিনচালিত বড় বোটে ৩০-৪০ জন যাত্রী নিয়ে যাওয়া হতো। এখন পানি শুকিয়ে ছোট ডিঙিতে মাত্র ৫-৬ জন নেওয়া যায়। এতে আয়-রোজগারও কমছে।”
স্থানীয় সমাজকর্মী সুফল চাকমা বলেন, “সাঙ্গু নদী শুধু জলধারা নয়; এটি বান্দরবানের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী খনন ও তীর দখলমুক্ত করা, উজানে বৃক্ষ নিধন ও পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সময় মতো উদ্যোগ না নিলে প্রাচীন এই নদী ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।”
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সাঙ্গু ও মাতা মুহুরি নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নদী দুটি রক্ষার জন্য সুরক্ষা ও ক্ষণণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।