রোজার শুরু থেকে প্রাণিজ আমিষের উৎস ব্রয়লার ও গরুর মাংসের যে দাম বেড়েছে তা আর কমছে না।
সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, উল্টো চাহিদা ও সরবরাহ বাড়ার তথ্য দিয়েছেন রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মাংস বিক্রেতা খোকন সরদার।
শুক্রবার তিনি বলেন, “মাংস আছে, ক্রেতাও আছে। রমজান তো দাম একটু বাড়বে। এই সময়ে গরু আনতেও খরচা বাইড়া যায়।
মাংস ব্যবসায়ীর এই বক্তব্য মানতে নারাজ ক্রেতা সেলিম উদ্দিন। প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে প্রায় তিন কেজি মাংস কিনেছেন তিনি। টাকার দেওয়ার সময় ২০ টাকা কম দিতে চাইলেও বিক্রেতা রাজি হননি।
নিয়মিত মংস নেন দাবি করলেও কোনো ছাড় পাননি, শেষ পর্যায়ে দামের পুরোটাই পরিশোধ করেন সেলিম। তিনি বলেন, “রোজার মাসে সপ্তাহের তিন-চার দিনই মাংস খাওয়া হয়। অন্যান্য সময়ে তা দুই দিন বা একদিন হয়। তারা (মাংস বিক্রেতা) জানেন এখন ক্রেতা বেশি। কেউ না কেউ নেবেই। এজন্য দাম বাড়াচ্ছে।
“আগে তো বিক্রি না হলে হোটেলে দিয়ে দিত রাতে। এখন তো সেই অনিশ্চয়তা নেই।’’
রোজার আগেও ভালো মানের মাংস রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা।
রোজায় মুখরোচক খাবার হালিম বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় মাংসের চাহিদা আরো বেড়েছে।
সেলিমের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।
এদিন রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে শুধু গরুর মাংস নয়, মুরগি বাজারেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। যাত্রাবাড়ীতে আগের সপ্তাহের মতো ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০-২২০ টাকা দরে। আর কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৩০ টাকায়।
এই বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হাশেম বলেন, “মাঝখানে ১০ টাকা কমেছিল কেজিতে। কাইলকা (বৃহস্পতিবার) আবার বাইড়া গেছে।”
আগের সপ্তাহেও কক মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে।
অবশ্য যাত্রাবাড়ী ও সেগুনবাগিচায় আগের দরেই এক ডজন ডিম মিলছে ১২০ টাকায়। উত্তাপ কমছে কাঁচা বাজারে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল ও সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোজার শুরুতে বেগুন, শসা, গাজর, টমেটো, মরিচ ও করোলার দাম বেড়েছিল, এখন কমে আগের জায়গায় ফিরতে শুরু করেছে।
আগের সপ্তাহ থেকে কমতে শুরু করা মরিচ ও টমেটোর দাম রোজার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
অন্যদিকে আগের দরে শুক্রবারও বিক্রি হয় আলু, শিম, ফুলকপি, মুলা, শালগম, মটরশুটি, কায়তা বা চিচিঙ্গা ও পেঁপে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এসব সবজির দরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মোবারক হোসেন বলেন, প্রতি কেজি গোল বেগুন ৫০ টাকা ও লম্বা বেগুন ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।
আগের সপ্তাহে তা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। রোজার প্রথম দিকে দর উঠেছিল ১১০-১২০ টাকা।
এ বাজারে কমতে শুরু করেছে লেবুর দরও। আগের সপ্তাহে ৬০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। খুচরা পর্যায়ে অর্থাৎ একটি নিলে গুনতে হচ্ছে ১৫ টাকাই।
সালাদের উপকরণ শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও গাজর ৪০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে শসা ৭০ টাকা ও গাজর বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বেশি দর কমেছে টমেটোর। রোজার শুরুতে হঠাৎ করে যে সবজির দাম ৬০-৭০ টাকা উঠেছিল, শুক্রবার তা সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে বিক্রি হয় ৩০ টাকা কেজিতে।
আগের দর ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে শিম। এছাড়া পেঁপে ৩০ টাকা ও মুলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটিতে ১০টি কমে ফুলকপি ও বাধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। একই পরিমাণ কমে শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি। সেগুন বাগিচায় মটরশুটি আগের দর, কেজি ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
আগের দরে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয় ১০০ টাকা দরে। আর দেশি পেয়াঁজ ৪০ টাকা।