• দেশজুড়ে
  • পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফটেছে এসেছে ফাগুন এলো দারুণ বসন্ত,

পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফটেছে এসেছে ফাগুন এলো দারুণ বসন্ত,

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফটেছে এসেছে  ফাগুন এলো দারুণ বসন্ত,

অসীম রায় (অশ্বিনী) বান্দরবান

বান্দরবানে সাজিয়ে রঙের ছোঁয়া লেগেছে ফাগুনের আগুন অফিস ও বাংলায়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেইট বাসায় কিংবা টবে - আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা / কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে।’ শীতের শেষে প্রকৃতি সাজে আপন মহিমায়। পলাশ, শিমুলসহ বর্ণিল ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ। সেই রঙের পরশ ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে।

প্রকৃতি জানান দিয়েছে এসেছে বসন্ত। তাই প্রকৃতির দক্ষিণা দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া। কোকিলের কুহুতানে মুখরিত হয়েছে প্রকৃতি। ফুলে ফুলে ভ্রমরও করছে খেলা, গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। সব কিছুই জানান দিচ্ছে ফাল্গুন বইছে এ ধরায়। শুকনো পাতা ঝরে জন্ম নিয়েছে নতুন কচি পাতার।

সেই পত্র-পল্লবে, ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকা আর পাহাড় অরণ্যে বসন্ত ডাক দিয়েছে নবযৌবনের। ছড়িয়ে দিয়েছে রঙের খেলা। সব ধরনের কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে, নতুন প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বহমান এ বসন্ত।

কবির রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গান মনে দোলা দিয়ে যায় – আহা আজি এ বসন্তে / এত ফুল ফুটে, এত পাখি গায়’। পলাশ শিমুল ফোটা দারুণ এই ফাল্গুনের মাস প্রকৃতি উপভোগ করছে বসন্তের সবটুকু সৌন্দর্য দিয়ে।

বসন্ত বাঙালির জীবনের সঙ্গে একাকার হয়ে আছে। বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। বহু বছর ধরেই বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালিরা ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে পালন করে আসছে। উৎসব এখন সবার। এ উৎসবটির একটি ঐতিহ্যময় ইতিহাসও রয়েছে।

মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম ও উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই বসন্ত উৎসব শুধু একটা উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য।

বসন্ত উন্মাদনায় আজ মেতে উঠছে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষ। বসন্তের বন্দনা ছড়াতে হলুদ, বাসন্তী রঙের শাড়ি, নজরকাড়া পাঞ্জাবি পরে এবং রঙিন ফুলে নিজেদের সাজিয়েছ, আসছে ঈদের আনন্দ ধুমধাম আয়োজন।

শীত চলে যায় রিক্ত হস্তে, আর বসন্ত আসে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাচ্ছ শীতের জরা-জীর্ণতা। ভালোবাসার মানুষেরা মন রাঙাচ্ছে বাসন্তী রঙেই। পিঠা উৎসবও হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে।

বসন্ত যেমন আমাদের খুশির ঋতু, তেমনি বেদনারও বটে। ফাগুনে শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ফাগুনের শহীদদের কথা। ফাল্গুন মনে করিয়ে দেয় ভাষা শহীদদের রক্তের ইতিহাস। যা লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মতো ব্যাকুল করে তুলছে বাঙালির বিরহী অন্তর। ফাল্গুন সবার জন্য আনন্দময় হোক। ভালোবাসায় পরিপূর্ণ থাকুক সবার জীবন।