• রাজনীতি
  • ‘জুলাই সনদকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্ব অস্বীকারের শামিল’: বিএনপিকে কড়া বার্তা আজহারুল ইসলামের

‘জুলাই সনদকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্ব অস্বীকারের শামিল’: বিএনপিকে কড়া বার্তা আজহারুল ইসলামের

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘জুলাই সনদকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্ব অস্বীকারের শামিল’: বিএনপিকে কড়া বার্তা আজহারুল ইসলামের

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে জামায়াত নেতার আহ্বান; জুলাই বিপ্লবের অর্জন ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বকশিবাজারে ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর শপথ নিতে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিএনপির প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জুলাই সনদকে অস্বীকার করা মানেই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে অস্বীকার করা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বকশিবাজারে কারা কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চকবাজার দক্ষিণ থানা আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফাঁসির মঞ্চ থেকে খালাস পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই প্রবীণ নেতার বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বিএনপিকে উদ্দেশ করে আজহারুল ইসলাম বলেন, "আপনারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, যা ছিল ছাত্র-জনতার বিপ্লবের এক ঐতিহাসিক ‘Political Mandate’। কিন্তু এখন শপথ নিতে অনীহা প্রকাশ করে আপনারা জাতির সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। মনে রাখবেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যত্যয় ঘটলে এ দেশের সাধারণ মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।"

তিনি আরও যোগ করেন, "২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ফসল হলো এই জুলাই সনদ। আজ যারা সরকারে আছেন বা মন্ত্রী হয়েছেন, জুলাই বিপ্লব না হলে তাদের এই সুযোগ তৈরি হতো না। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তনের পথও এই আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রশস্ত হয়েছে। তাই এই সনদকে অস্বীকার করা মানে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগকে অপমান করা।"

নতুন বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "ফ্যাসিবাদ মুক্ত এক নতুন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাজারো ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদকে অবশ্যই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘Constitutional Reform’ বা সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।"

তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "যদি সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে হাঁটে, তবে জামায়াত রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ গড়তে দ্বিধা করবে না।"

রোজার আধ্যাত্মিক ও সামাজিক তাৎপর্য রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ইফতার মাহফিলে রমজানের গুরুত্ব তুলে ধরেন এই নেতা। তিনি বলেন, "রোজা কেবল উপবাস থাকা নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক পরিবর্তনের এক মহৎ সুযোগ। আল্লাহ আমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন যাতে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম হতে পারি।" সমাজের সকল অন্যায় ও অনাচার পরিহার করে রোজার শিক্ষায় জীবন গড়ার জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজহারুল ইসলামের এই বক্তব্য আগামী সংসদ অধিবেশনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

Tags: july sanad atm azharul