বলিউডের সোনালী সংজ্ঞায় যাঁদের নাম অবলীলায় চলে আসে, তাঁদেরই একজন ছিলেন মধু মালহোত্রা। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে খণ্ডকালীন চরিত্রেও যিনি রেখে গেছেন গভীর ছাপ, সেই গুণী অভিনেত্রী আর নেই। শুক্রবার (১৩ মার্চ) মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া'র বরাতে তাঁর প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যদিও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
অন্তরালে থেকেও সংবাদের শিরোনামে
দীর্ঘ সময় ধরে রুপালি পর্দা এবং লাইমলাইটের আড়ালে ছিলেন মধু মালহোত্রা। তবে তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিষণ্ণতার ছায়া নেমে আসে। ভক্তরা তাঁদের প্রিয় অভিনেত্রীর কালজয়ী সিনেমার দৃশ্য ও গান শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ, আর আটের দশকের দর্শকদের কাছে তিনি এক আবেগের নাম।
হরর মুভি থেকে বিগ বি-র সহ-অভিনেত্রী
মধু মালহোত্রার ‘Cinematic Journey’ শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। র্যামসে ব্রাদার্সের আইকনিক হরর ছবি ‘আন্ধেরা’র মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তাঁর। তবে তাঁর ক্যারিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট আসে ১৯৭৯ সালে। মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘দ্য গ্রেট গ্যাম্বলার’ সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। এরপর ‘আস পাস’ এবং ‘হীর রাঞ্জা’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।
‘লম্বি জুদাই’ ও যাযাবর সেই নারী
বলিউড ইতিহাসের অন্যতম বিরহী গান ‘লম্বি জুদাই’। ১৯৮৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুভাষ ঘাইয়ের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘হিরো’-র এই গানটি শোনেননি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া ভার। জ্যাকি শ্রফ ও মীনাক্ষী শেষাদ্রি অভিনীত এই ছবিতে একজন যাযাবর নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মধু মালহোত্রা। গানটির দৃশ্যায়নে তাঁর সেই বিষণ্ণ চাহনি আর অভিব্যক্তি আজও দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। খুব অল্প সময়ের ‘Screen Presence’ হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রমাণ করেছিলেন, চরিত্র বড় হওয়ার চেয়ে অভিনয়ের গভীরতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
নব্বইয়ের দশক ও শেষ অধ্যায়
নব্বইয়ের দশকেও নিয়মিত কাজ করেছেন এই শক্তিমান অভিনেত্রী। রাকেশ রোশনের ‘কিং আঙ্কেল’ কিংবা আমির খান অভিনীত ‘গুলাম’-এর মতো সিনেমায় তাঁর ‘Supporting Role’ ছিল প্রশংসনীয়। ছোট ছোট চরিত্রেও তিনি যে গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলতেন, তা আধুনিক প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক বড় শিক্ষা। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওহ বেওয়াফা থি’ ছিল তাঁর অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র। এরপর তিনি অনেকটা স্বেচ্ছায় প্রচারের আড়ালে চলে যান।
মধু মালহোত্রার চলে যাওয়া মানে বলিউডের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। তিনি হয়তো বড় কোনো কমার্শিয়াল স্টার ছিলেন না, কিন্তু তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং বিশেষ করে ‘লম্বি জুদাই’ গানটির সাথে তাঁর নাম চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে বিনোদন জগতের এক নক্ষত্রের পতন হলো।