প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরান যুদ্ধে আমেরিকা এককভাবে জয়ী হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রচণ্ড চাপের মুখে ফেলেছে।
মিত্রদের প্রতি আকস্মিক আহ্বান ও প্রচ্ছন্ন হুমকি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্র এবং চীনের প্রতি রণতরী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সহায়তা না করলে ইউরোপে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং চীনের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ঘোষিত ‘বিজয়ী’ যুদ্ধে বিদেশি সাহায্যের এই প্রয়োজনীয়তা ট্রাম্পের কূটনৈতিক ব্যর্থতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।
যুদ্ধ জয় না কি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শঙ্কা? মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যুদ্ধের সাফল্য নিয়ে আশার বাণী শোনালেও সেখানে যথেষ্ট অমিল পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ একে ‘আধুনিক সামরিক ইতিহাসের অনন্য বিজয়’ বললেও সেনারা কবে নাগাদ ঘরে ফিরবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা মার্কিন ভোটারদের মনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস’ করার দাবি করলেও তেহরানের কাছে এখনো প্রচুর সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। এটি মোকাবিলায় সরাসরি স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া ইরানের আয়ের মূল উৎস খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনাও মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ইরান যদি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের তেল স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও চিরস্থায়ী যুদ্ধের আতঙ্ক ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উত্থান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের সংকেত দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা (Exit Strategy) ছাড়াই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন। রিপাবলিকানরা আসন্ন নির্বাচনের ভয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও হরমুজ প্রণালির সংকট ট্রাম্পকে মিত্রদের কাছে হাত পাততে বাধ্য করছে। ফলে ‘বিজয়ের’ দাবি করলেও মিত্রদের রণতরী ছাড়া এই সংঘাতের সমাপ্তি টানা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।