শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা এবং পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশনের (পিএনএসসি) বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরান সম্ভবত নির্দিষ্ট কিছু দেশের তেলের জাহাজের জন্য এই কৌশলগত নৌপথ উন্মুক্ত রেখেছে।
সবশেষ রবিবার সন্ধ্যায় ‘করাচি’ নামক একটি পাকিস্তানি ট্যাংকার ইরানি উপকূল ঘেঁষে অত্যন্ত নিরাপদভাবে প্রণালিটি পার হয়েছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইরানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতর দিয়ে চলাচলের সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল প্রদান করছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।
ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানোবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা মনে করেন, পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই সুযোগ লাভ করেছে। তার মতে, ইরান পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট সম্পর্কে অবগত এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে ইরানের প্রতি যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তার ফলে পাকিস্তানকে হয়তো বড় কোনো ছাড় দিতে হয়নি। মূলত বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রতি সংহতি জানাতেই তেহরান এই নমনীয়তা প্রদর্শন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান এর আগে বারবার জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি কেবল তাদের শত্রু এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর জন্য অবরুদ্ধ থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পাকিস্তানের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সংহতির জন্য দেশটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইরানের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কথা নিশ্চিত করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের এই সময়ে পাকিস্তানের জন্য তেলের সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন