• আন্তর্জাতিক
  • ইরান যুদ্ধ: ফুরিয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ, উদ্বিগ্ন মার্কিন মিত্ররা

ইরান যুদ্ধ: ফুরিয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ, উদ্বিগ্ন মার্কিন মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরান যুদ্ধ: ফুরিয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ, উদ্বিগ্ন মার্কিন মিত্ররা

ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একের পর এক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্রাগারে টান পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষ করে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দেশগুলোও এখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে গভীর সংকটে রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী সংস্থা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রান্স বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে ইরানের ‘কামিকাজে’ ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য তাদের রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে দামী ‘মিকা’ মিসাইল ব্যবহার করছে। জানা গেছে, প্রতিটি মিকা ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ ইউরো, যা ইরানের সস্তা ড্রোনগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্রুত ফুরিয়ে আসা মজুদ ফ্রান্সের সামরিক সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না।

সংকট কেবল ফ্রান্সে সীমাবদ্ধ নেই; মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোও একই সমস্যার সম্মুখীন। ইরানের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে মোতায়েন করা মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। একেকটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল উৎক্ষেপণে খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ লাখ ডলার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাণ্ডারে ‘অফুরন্ত’ অস্ত্র রয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ইসরায়েলও তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ব্যবস্থার ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করেছে।

এই ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে মোতায়েন করা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা ‘থাড’ (থাড) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে যা এখনো অক্ষত। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর রক্ষণাত্মক অস্ত্র ফুরিয়ে আসার বিষয়টি এই যুদ্ধে ইরানকে কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আরটি

Tags: ইরান যুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্রের উদ্বিগ্ন মার্কিন মিত্ররা