রাজধানীর জনবহুল প্রবেশপথ ও পরিবহণ টার্মিনালগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (DMP)। সোমবার (১৬ মার্চ) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক অবৈধ স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সদরঘাটে উচ্ছেদ অভিযান ও কঠোর বার্তা
নৌ-পথের প্রধান কেন্দ্র সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বড় ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম (Eviction Drive) চালানো হয়। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, অভিযান চলাকালে টার্মিনাল সংলগ্ন ফুটপাত ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা ১০০টিরও বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনচলাচল নির্বিঘ্ন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এছাড়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সেখান থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কমলাপুরে সাজার হিড়িক
দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একজনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, একজনকে ২০ দিনের এবং ছয়জনকে ১৫ দিনের জেল দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়জনকে সতর্ক করে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। রেলওয়ে স্টেশনে চুরি ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই সাজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
সায়েদাবাদে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা
রাজধানীর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিবহণ ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব মামলার বিপরীতে মোট ২১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। মূলত বাসের বিশৃঙ্খল পার্কিং এবং যাত্রী হয়রানি রোধে এই অভিযান চালানো হয়।
নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যয়
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, "ঢাকা মহানগরীকে নিরাপদ রাখতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, ইভটিজিং এবং ফুটপাত বা রাস্তা অবৈধ দখলের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের এই নিয়মিত অভিযান (Regular Drive) অব্যাহত থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারিক সেবা নিশ্চিত করায় সাধারণ মানুষ দ্রুত সুফল পাচ্ছেন।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নাগরিকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের Mobile Court কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।