• জাতীয়
  • মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের দাবানল কি গ্রাস করবে বিশ্ব অর্থনীতিকে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনসিটিএডি প্রধানের গভীর উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের দাবানল কি গ্রাস করবে বিশ্ব অর্থনীতিকে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনসিটিএডি প্রধানের গভীর উদ্বেগ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের দাবানল কি গ্রাস করবে বিশ্ব অর্থনীতিকে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনসিটিএডি প্রধানের গভীর উদ্বেগ

জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্য অস্থিরতায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো; জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উঠে এল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার চিত্র।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অগ্নিমূল্য এবং Supply Chain বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (UNCTAD) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতার কালো মেঘ

সোমবার (১৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে উঠে আসে বর্তমান বিশ্বের এক অস্থির অর্থনৈতিক চালচিত্র। ইউএনসিটিএডি মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই Geopolitical Crisis কেবল আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

উন্নয়নশীল দেশের অর্জন হারানোর ভয়

বৈঠকে দুই পক্ষই একমত পোষণ করেন যে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল ও দরিদ্র রাষ্ট্রগুলো। গত কয়েক দশকে কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি বা Development Progress এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, "আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটলে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।"

কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার আহ্বান

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও না বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন গ্রিনস্প্যান ও ড. রহমান। তারা মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে এই সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। যুদ্ধের পরিবর্তে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই এখন হওয়া উচিত বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর প্রধান লক্ষ্য।

জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের লড়াই ও পারস্পরিক সহযোগিতা

এদিন কেবল অর্থনৈতিক সংকট নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নেতৃত্বের প্রসঙ্গও। কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব (UN Secretary General) পদের জন্য অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (UNGA President) সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৈঠকে তারা নিজ নিজ প্রার্থিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশের জন্য এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Tags: middle east global economy