• জাতীয়
  • টুঙ্গিপাড়ার সেই 'খোকা' থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন আজ

টুঙ্গিপাড়ার সেই 'খোকা' থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন আজ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
টুঙ্গিপাড়ার সেই 'খোকা' থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন আজ

বাঙালির রাজনৈতিক স্বাধিকার ও মুক্তির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ; টুঙ্গিপাড়া থেকে বিশ্বমঞ্চে ধ্রুবতারা হয়ে ওঠার এক কালজয়ী মহাকাব্য।

আজ ১৭ মার্চ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২০ সালের এই দিনে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান নেতা। বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। পরিবারের প্রিয় 'খোকা' থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন শোষিত-বঞ্চিত বাঙালির অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়স্থল।

শৈশব থেকেই প্রতিবাদের ভাষা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

বঙ্গবন্ধুর শৈশব কেটেছে টুঙ্গিপাড়ার ছায়াঘেরা পরিবেশে। গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও মহাজন-জমিদারদের শোষণ তিনি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। কৈশোরেই তার মধ্যে সমাজ সংস্কার ও অধিকারবোধের বীজ রোপিত হয়েছিল। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে পড়ার সময় তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের অভিষেক ঘটে। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন তিনি। কিশোর বয়স থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দর্শনে দীক্ষিত ছিলেন এই অবিসংবাদিত নেতা।

রাজনৈতিক অভিযাত্রা: ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রনায়ক

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। ১৯৪৮ সালে 'বাংলাদেশ ছাত্রলীগ' এবং ১৯৪৯ সালে 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ' গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন এবং ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ পেশের মাধ্যমে তিনি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা তাকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে তার Leadership বা নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায়।

সাতই মার্চের তর্জনী ও একটি স্বাধীন মানচিত্র

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে তার বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত হয়— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই Historic Speech ছিল মূলত একটি পরাধীন জাতির জন্য স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্ব মানচিত্রে উদিত হয় ‘বাংলাদেশ’ নামক এক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধুর অবিচল সাহস ও আপসহীন নীতি না থাকলে এই স্বাধীনতা অর্জন হয়তো দীর্ঘায়িত হতো।

অবিনাশী আদর্শ ও মৃত্যুঞ্জয়ী সত্তা

বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় প্রায় ১৪ বছর জেল খেটেছেন এবং দুইবার ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে আপস করেননি। তার Political Legacy বা রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে কতিপয় বিশ্বাসঘাতকের বুলেটে সপরিবারে নিহত হন এই মহানায়ক। শারীরিকভাবে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, তার আদর্শ ও দর্শন বাঙালির হৃদয়ে অম্লান। তিনি কেবল একটি দেশের প্রতিষ্ঠাতা নন, বরং নিপীড়িত মানুষের Freedom Struggle বা মুক্তি সংগ্রামের এক বিশ্বজনীন প্রতীক।

আজকের এই শুভ দিনে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করছে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। যার হাত ধরে অর্জিত হয়েছে লাল-সবুজের পতাকা, সেই মহান নেতার জন্মদিনে শপথ হোক একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার।

Tags: bangladesh history leadership freedom fighter political legacy sheikh mujib march 17 tungipara bangabandhu birthday independence founder historic speech