যিনি কয়েক দশক ধরে নিজের সাবলীল অভিনয় আর প্রাণোচ্ছল হাসিতে টেলিভিশন পর্দা মাতিয়ে রেখেছিলেন, আজ তিনি নিথর, নিস্তব্ধ। যে চিরচেনা কর্মস্থলে একসময় পদচারণায় মুখর থাকতেন অভিনেতা শামস সুমন, সেই চ্যানেল আই প্রাঙ্গণেই আজ তাকে নিয়ে আসা হলো শেষবারের মতো। তবে কোনো শুটিং বা লাইভ প্রোগ্রামের জন্য নয়, বরং সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিতে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত এই অভিনেতার প্রথম জানাজায় নেমে এসেছিল শোকের এক গভীর ছায়া।
নীরবতায় ঘেরা নিথর বিদায় সকাল থেকেই চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে ভিড় করতে থাকেন শোবিজ অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সেখানে কোনো কোলাহল ছিল না, ছিল কেবল গুমরে কাঁদা মানুষের দীর্ঘশ্বাস। প্রিয় সহকর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা শিল্পী, নির্মাতা এবং কলাকুশলীদের চোখে ছিল অবিশ্বাসের দৃষ্টি। অনেকের কাছেই শামস সুমনের এই অকাল প্রস্থান যেন এক অপূরণীয় ক্ষতি। Media Industry-তে তার যে অবদান, তা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা।
স্মৃতির পাতায় অমলিন এক শিল্পী জানাজা শেষে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক অভিনয়শিল্পী। শুটিং সেটের সেই আড্ডা, স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা কিংবা ক্যামেরার পেছনের অমায়িক ব্যবহার—সবই এখন স্মৃতি। উপস্থিত সহকর্মীরা জানান, শামস সুমন কেবল একজন দক্ষ অভিনেতাই ছিলেন না, বরং এক সুশোভন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তার প্রয়াণে Entertainment Sector-এ যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
শেষ গন্তব্য ও অন্তিম শয়ান উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি Private Hospital-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শক্তিমান অভিনেতা। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের রোল পড়ে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, অভিনেতার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তারা দেশে ফিরলেই শামস সুমনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার জন্মভিটা রাজশাহীতে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে শামস সুমন চলে গেলেন না ফেরার দেশে, তবে তার অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে দীর্ঘকাল।