আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কিন্তু এই সুযোগে বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আসা যাত্রীদের পকেট কাটছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন পরিবহনে ভাড়ার চরম নৈরাজ্য চলছে।
যাত্রীদের অভিযোগ ও দুর্ভোগ ঢাকা থেকে হানিফ, শ্যামলী, সুগন্ধা ও বিএমএফসহ বিভিন্ন পরিবহনে আসা যাত্রীরা জানান, ঈদ ও কৃত্রিম তেল সংকটের অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সাধারণ সময়ে যে পথের ভাড়া ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বর্তমানে সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, সায়েদাবাদ থেকে এক বাসের টিকিট দিয়ে তাদের অন্য বাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকেই দ্বিগুণ ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শ্রমিক ও মালিক পক্ষের দাবি ভাড়ার এই লাগামহীন বৃদ্ধির দায় নিতে নারাজ বাসের চালক ও শ্রমিকরা। তাদের দাবি, যারা কাউন্টার পরিচালনা করেন তারা মালিকদের কাছ থেকে ঈদ উপলক্ষে বাস 'ইজারা' নিয়েছেন। এই তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্বত্বভোগীরাই মূলত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। অন্যদিকে, বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, বরিশাল থেকে কোনো বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা থেকে আসা বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে তার দায়ভার বরিশালের মালিকদের নয়।
প্রশাসনের তদারকি ও জরিমানা ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে হানিফ পরিবহনের ২১ জন যাত্রীকে বাড়তি নেওয়া ২০০ টাকা করে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও অনিয়মের দায়ে বেশ কয়েকটি পরিবহনকে জরিমানাও করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আশ্বাস ও নজরদারি মঙ্গলবার নথুল্লাবাদ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। তিনি বিভিন্ন কাউন্টার ও বাসে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশুদ্ধ পানি ও ছাউনির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া রোধে পুলিশ ও মালিক সমিতির সমন্বয়ে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার আশ্বাস দেন তিনি।