বগুড়ার আদমদীঘিতে ঘটে যাওয়া ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’-এর ভয়াবহ দুর্ঘটনার ক্ষত কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন সংস্কার শেষে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে (Bangladesh Railway) কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে উত্তরবঙ্গগামী সকল ট্রেনের সময়সূচি বা ‘Train Schedule’ পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
মহাপরিচালকের আশ্বাস: স্বাভাবিক হচ্ছে পরিষেবা
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন এই স্বস্তির খবর জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বৃহস্পতিবার সকালেই দুর্ঘটনা কবলিত নীলসাগর এক্সপ্রেসের উদ্ধার কাজ (Rescue Operation) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ওই লাইনে ইতিমধ্যেই ট্রায়াল রান শেষে নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামীকাল শুক্রবার থেকেই উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন তাদের নির্ধারিত শিডিউল মেনে চলবে।”
স্মরণে সেই ভয়াবহ দুপুর
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় পৌঁছালে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। চলন্ত ট্রেনের ৯টি বগি আকস্মিকভাবে লাইনচ্যুত (Derailment) হয়ে রেললাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হন এবং উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনার কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় হাজার হাজার ঘরমুখো যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, এবং বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়েছে।
রাতভর উদ্ধার অভিযান ও কারিগরি সংস্কার
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ের প্রকৌশলী এবং উদ্ধারকারী দল রিলিফ ট্রেন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বগিগুলো রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ‘Track Restoration’ বা লাইন মেরামতের কাজ চলেছে বিরতিহীনভাবে। মহাপরিচালক আরও জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি রেললাইনের সমস্যা—তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য স্বস্তির সংবাদ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে যখন নাড়ির টানে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় এমন দুর্ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রেলওয়ের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে। শুক্রবার সকাল থেকে উত্তরবঙ্গগামী প্রতিটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী কমলাপুর ও অন্যান্য স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই লাইনে ট্রেনের গতিসীমা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে যাতে কোনো প্রকার ঝুঁকির অবকাশ না থাকে।