সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কোনো আহ্বান না আসায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জুলাই আদেশের বাস্তবায়ন। এই প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অনিশ্চয়তার মূলে সময়সীমা লঙ্ঘন জুলাই আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিধান রয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের পর সেই সময়সীমা গত রোববার শেষ হয়েছে। কিন্তু অধিবেশন আহ্বান না করায় পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক ধোঁয়াশা।
সরকার ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক। জামায়াত ও এনসিপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে একাট্টা থাকলেও ক্ষমতাসীন বিএনপি সংবিধানের বাধ্যবাধকতার কথা বলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধানে এই পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় রাষ্ট্রপতি অধিবেশন ডাকতে পারছেন না। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একে জনগণের রায়ের অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
১১ দলের হুঁশিয়ারি ও ঈদের পরবর্তী পরিকল্পনা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামবেন। এনসিপির নেতারাও মনে করছেন, সরকার জুলাই সনদ এড়ানোর চেষ্টা করছে। ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটি শীঘ্রই বৈঠকে বসে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করবে।
সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকার পুরোনো পথে হাঁটতে শুরু করেছে এবং সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদ এবং রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই তাদের আন্দোলন চলবে। জনগণের রায় তথা গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা সহ্য করা হবে না বলেও দাবি করেন জোটের নেতারা।