পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিজের উৎসবকালীন ব্যস্ত সূচি চূড়ান্ত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মুসলিম উম্মাহর এই বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবে তিনি এবার রাজধানী ঢাকাতেই ঈদের নামাজ আদায় করবেন। তবে উৎসবের আমেজ ভাগ করে নিতে ঈদের পরবর্তী কয়েক দিন তিনি ব্যস্ত থাকবেন নিজ এলাকা সিলেট ও মৌলভীবাজারে আয়োজিত একাধিক ‘Public Engagement’ ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে।
বুধবার (১৮ মার্চ) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে জ্যেষ্ঠ প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ রমজানের ২৮ তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শুক্রবার বা শনিবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
ঢাকায় ঈদের জামাত ও গণসংযোগ দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমান ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফিট সড়ক সংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে। সেখানে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় মুসল্লি, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জনসাধারণের সঙ্গে এই সরাসরি ‘Interaction’ বা কুশল বিনিময়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিলেটে তৃণমূলের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনী ঈদের পরদিন ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নিজ জেলা সিলেটের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে সিলেট মহানগর ও জেলা জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত পৃথক দুটি ‘Eid Reunion’ বা ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি (Chief Guest) হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই সফরটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘Political Outreach’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় উৎসবের তৃতীয় দিনে বিরোধীদলীয় নেতা মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে একটি বিশেষ ঈদ পুনর্মিলনী ও সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। গ্রামীণ পর্যায়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেবল দলীয় নেতাকর্মী নয়, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ‘Opinion Exchange’ বা মতবিনিময় সভায় মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের এই ঈদ সফর একদিকে যেমন ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতির বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে পেশাজীবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদ পর্যন্ত এই বিস্তৃত জনসংযোগ কর্মসূচি আসন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।