বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশুর শৈশবকে জাদুকরী সব গল্পে রাঙিয়ে দেওয়া জনপ্রিয় অ্যানিমে (Anime) ধারাবাহিক ‘ডোরেমন’-এর অন্যতম প্রধান কারিগর সুতোমু শিবায়ামা আর নেই। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) ৮৪ বছর বয়সে জাপানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মরণব্যাধি ফুসফুসের ক্যানসারের (Lung Cancer) সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তার প্রয়াণে বৈশ্বিক অ্যানিমেশন শিল্পে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
ক্যানসারের কাছে হার মানলেন শৈশবের জাদুকর সুতোমু শিবায়ামার মৃত্যুতে জাপানের বিনোদন ও অ্যানিমেশন জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার হাতে গড়া অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘আজিয়াদো’ (Ajia-do Animation Works) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই কিংবদন্তি পরিচালকের প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছে। গত ১৭ মার্চ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘ডোরেমন’ সিরিজের দীর্ঘকালীন অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে সুতোমু শিবায়ামার মেধা ও সৃজনশীলতা ছিল অনবদ্য। তিনি কেবল একজন পরিচালক ছিলেন না, বরং কয়েক প্রজন্মের শৈশবের স্থপতি ছিলেন।
অ্যানিমেশন শিল্পের পথপ্রদর্শক ও কালজয়ী চরিত্রায়ন জাপানি অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ‘Pioneer’ বা পথপ্রদর্শক মনে করা হয় শিবায়ামাকে। ডোরেমন সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবিতা, শিজুকা, জিয়ান ও সুনির মতো আইকনিক চরিত্রগুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। তার পরিচালনার শৈলী এবং গল্প বলার ঢং ডোরেমনকে কেবল জাপানে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী একটি ‘Cultural Icon’-এ পরিণত করেছে। ডোরেমনের অসংখ্য পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Movie) এবং দীর্ঘ ধারাবাহিক পরিচালনার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও ‘আজিয়াদো’ স্টুডিওর যাত্রা সুতোমু শিবায়ামার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৬৩ সালে জাপানের একটি স্বনামধন্য অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পর তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘আজিয়াদো’। ডোরেমন ছাড়াও ‘নিন্তামা রান্তারো’-র মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় সিরিজের প্রধান পরিচালক (Chief Director) হিসেবে তিনি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সৃজনশীল কাজগুলো কয়েক দশক ধরে টেলিভিশন রেটিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করেছে।
স্বীকৃতি ও আজীবন সম্মাননা অ্যানিমেশন শিল্পে তার অনন্য ও অতুলনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে ‘Lifetime Achievement Award’ বা আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। আধুনিক অ্যানিমেশন প্রযুক্তির যুগেও তার তৈরি ক্লাসিক কাজগুলো আজও সমানভাবে জনপ্রিয়।
সুতোমু শিবায়ামা হয়তো সশরীরে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু ডোরেমনের পকেট থেকে বের হওয়া সেইসব অদ্ভুত গ্যাজেট আর নবিতার বন্ধুত্বের গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। তার এই প্রয়াণ কেবল একজন পরিচালকের বিদায় নয়, বরং একটি সোনালি শৈশবের রূপকারের চিরপ্রস্থান।