• বিনোদন
  • স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া: মাত্র ২১ বছরেই ৩০০ কোটির সাম্রাজ্য জান্নাত জুবেরের, আয়ের নেপথ্যে কোন ম্যাজিক?

স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া: মাত্র ২১ বছরেই ৩০০ কোটির সাম্রাজ্য জান্নাত জুবেরের, আয়ের নেপথ্যে কোন ম্যাজিক?

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া: মাত্র ২১ বছরেই ৩০০ কোটির সাম্রাজ্য জান্নাত জুবেরের, আয়ের নেপথ্যে কোন ম্যাজিক?

৫ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি গ্লোবাল ডিজিটাল আইকন; টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ার সমন্বয়ে জান্নাত জুবেরের অবিশ্বাস্য উত্থানের অন্দরমহল।

গ্ল্যামার জগতের হাতছানি অনেককেই টানে, কিন্তু সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে পারেন খুব অল্প সংখ্যক মানুষ। সেই বিরল তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ভারতীয় ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ জান্নাত জুবের রহমানি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই তিনি এমন এক আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যা অনেক প্রতিষ্ঠিত বলিউড তারকার কাছেও স্বপ্নের মতো। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বয়সেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক জান্নাত। কিন্তু এই বিপুল বিত্তের উৎস কী? কীভাবে একজন সাধারণ শিশুশিল্পী থেকে তিনি হয়ে উঠলেন ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ‘ডিজিটাল এন্টারটেইনার’?

শৈশবের সেই ছোট্ট ‘ফুলওয়া’ এখন সাফল্যের শিখরে জান্নাতের মিডিয়া ক্যারিয়ারের সূচনা হয়েছিল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। ২০০৮ সালে ‘চাঁদ কে পার চলো’ সিরিয়ালের মাধ্যমে হাতেখড়ি হলেও, ২০১১ সালে ‘ফুলওয়া’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। এরপর ‘ভারত কা বীর পুত্র: মহারানা প্রতাপ’, ‘কাশি’ এবং ‘মহাকুম্ভ’-এর মতো একাধিক মেগা সিরিয়ালে নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ছোট পর্দার দর্শকদের কাছে জান্নাত জুবের মানেই ছিল এক পরিচিত ও ভরসার নাম।

টেলিভিশন ও রিয়ালিটি শো থেকে আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক অভিনয় জগতে জান্নাতের ডিমান্ড বা চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতি এপিসোড বা পর্বের জন্য প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন, যা ভারতীয় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে রেকর্ড সমতুল্য। এছাড়া জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১২’-তে অংশগ্রহণের জন্য তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮ লাখ রুপি নিয়েছিলেন। এই হাই-প্রোফাইল পারিশ্রমিক তার মোট সম্পত্তির ভিত গড়ে দিয়েছে।

ডিজিটাল রেভোলিউশন ও সোশ্যাল মিডিয়া ময়াস্ত্র জান্নাত জুবেরের সাফল্যের আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে তার দূরদর্শী ডিজিটাল উপস্থিতিতে। তিনি কেবল টেলিভিশনে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটি, যা তাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

১. ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট (Brand Endorsement): সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিপুল জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নামী-দামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন তিনি। প্রতিটি স্পনসরড পোস্ট বা কোলাবরেশন থেকে তিনি আয় করেন মোটা অঙ্কের টাকা। ২. ইউটিউব রেভিনিউ: নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত ভ্লগ এবং কন্টেন্ট শেয়ার করে তিনি প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেন। ৩. মিউজিক ভিডিও: জান্নাত বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ‘মিউজিক ভিডিও কুইন’। অসংখ্য মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে তিনি একদিকে যেমন পরিচিতি বাড়িয়েছেন, তেমনি বাড়িয়েছেন ব্যাংকের ব্যালেন্সও।

বিলাসবহুল জীবন ও গাড়ির সংগ্রহ ৩০০ কোটির মালিক জান্নাতের জীবনযাপনও বেশ রাজকীয়। মুম্বাইয়ের নিজস্ব বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়াও তার গ্যারেজে রয়েছে অডি, জাগুয়ার এবং বিএমডাব্লিউ-এর মতো দামি সব কার কালেকশন। শৈশবের কঠোর পরিশ্রম আর সময়োপযোগী ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি জান্নাতকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

ব্যক্তিগত জীবন ও গুঞ্জন পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি জান্নাতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নেটিজেনদের আগ্রহের শেষ নেই। ভারতের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া স্টার ফয়সাল শেখের (মি. ফয়সু) সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন দীর্ঘদিনের। যদিও তারা সবসময়ই নিজেদের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বলে দাবি করে এসেছেন।

শেষ কথা জান্নাত জুবেরের এই জয়যাত্রা প্রমাণ করে যে, সঠিক মেধা আর কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে যদি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগানো যায়, তবে বয়স কোনো বাধা হতে পারে না। মাত্র ২১ বছরে তার এই ৩০০ কোটির সাম্রাজ্য আগামীর তরুণ প্রজন্মের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

Tags: social media entertainment news net worth reality show television star brand endorsement jannat zubair digital creator