• দেশজুড়ে
  • ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামের আনাচে কানাচে

ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামের আনাচে কানাচে

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামের আনাচে কানাচে

তৌফিকা জামান শান্তা, মেলান্দহ , জামালপুর

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার গ্রামগুলোতে বইছে আনন্দের বর্ণিল হাওয়া। দীর্ঘ এক মাস রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদের এই খুশি যেন নতুন করে প্রাণ জাগিয়েছে গ্রামবাংলার প্রতিটি মানুষের মাঝে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ঘরেই এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঈদের আগমনী বার্তা শুরু হয় রমজানের শেষ দিক থেকেই। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনীসহ নানা পণ্যের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন গ্রামবাসী। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মাঝে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। তাদের হাসি আর আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। ঈদের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই গৃহিণীরাও। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নানা ধরনের পিঠা, সেমাই, পায়েস ও মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন তারা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে প্রতিটি বাড়ি। ঈদের দিন ভোর থেকেই শুরু হয় উৎসবের মূল আয়োজন। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে মুসল্লিরা দলে দলে ছুটে যান স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে। নামাজ আদায়ের পর একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই মিলে গড়ে ওঠে এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও নতুন পোশাক বিতরণ করেছে। অনেক সচ্ছল পরিবারও নিজ উদ্যোগে প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এছাড়াও, ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামে নানা বিনোদনের আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, গ্রামীণ মেলা এবং আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে দিনভর চলে আনন্দ উৎসব। সব মিলিয়ে, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার প্রতিটি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশে। গ্রামবাংলার এই সরল কিন্তু প্রাণবন্ত ঈদ উদযাপন যেন আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।