কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনার জেরে নিজ জন্মদাতা পিতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের বিরুদ্ধে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের নিলুরখামার কাটটারী গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে।
দুপুরের শান্ত গ্রামে রক্তাক্ত স্মৃতি
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল খালেক (৫৫) ওই গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। রোববার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে পারিবারিক কোনো একটি বিষয় নিয়ে আব্দুল খালেকের সঙ্গে তার ছেলে আসাদুজ্জামান মানিকের (২৯) কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মানিক চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ঘর থেকে একটি লোহার শাবল নিয়ে এসে বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। শাবলের আঘাতে আব্দুল খালেকের মাথা গুরুতর জখম হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দাম্পত্য কলহ ও মানসিক অস্থিরতা (Mental Health Context)
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান মানিক পেশায় সাধারণ যুবক হলেও গত এক বছর ধরে তিনি চরম মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে পার্শ্ববর্তী ভুরুঙ্গামারী এলাকায় তিনি বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বনিবনা হচ্ছিল না। দীর্ঘদিনের এই 'Domestic Conflict' বা দাম্পত্য কলহের জেরে মানিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং তিনি অনেকটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। পরিবার ও প্রতিবেশীদের ধারণা, এই মানসিক বিকৃতিই তাকে আজ এমন নৃশংস পথে ঠেলে দিয়েছে।
পুলিশি অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপ (Law Enforcement)
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই নাগেশ্বরী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান মানিককে আটক করা হয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি অভিযুক্ত যুবক মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আমরা কাজ করছি। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বাংলাদেশে সামাজিক অস্থিরতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব অনেক সময় এমন চরম অপরাধের (Extremist Violence) জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। পারিবারিক কলহ নিরসনে সঠিক কাউন্সেলিং এবং সচেতনতা থাকলে হয়তো এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।