ডিজিটাল পোস্ট থেকে বাস্তব জগতের সংঘাত চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস (Facebook Status) কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিমুল হোসেন কাজি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক সংবাদ শোনার পর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (Stroke) মারা গেছেন তার বৃদ্ধ দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০)। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপান্তর স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। ওই গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকা থেকে ফেসবুকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ রাজনৈতিক পোস্ট করেন। এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট (Social Media Post) নিয়ে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঈদের ছুটিতে হৃদয় গ্রামে ফিরলে সেই উত্তেজনা প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। শনিবার দুপুরে হৃদয়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষ গ্রুপের আব্দুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়, যা মুহূর্তেই লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষে মোড় নেয়।
গোষ্ঠীগত কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভেদ প্রাথমিকভাবে এটি একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধ মনে হলেও, পরবর্তীতে তা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাবে বৃহৎ সংঘাতের রূপ নেয়। স্থানীয়রা জানান, এই সংঘর্ষ এক পর্যায়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই উপদলের (Internal Faction) মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। হান্নান-কুবির গ্রুপ এবং লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো গ্রাম। সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয়। এই সহিংসতায় গুরুতর আহত শিমুল কাজিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
একই পরিবারে জোড়া মৃত্যু শিমুলের মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে তার পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নাতির মৃত্যুর খবর সহ্য করতে পারেননি তার দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি তীব্র শোকের চাপে হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) করেন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাজিম উদ্দিন আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং এই ট্র্যাজেডি তার শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছিল।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি ঘটনার পর থেকে ছত্রপাড়া গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের নতুন সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ (Additional Police) মোতায়েন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, “জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ এবং সাম্প্রতিক অনলাইন পোস্ট—সবকটি দিক মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম কাজ করছে।” বর্তমানে পুরো গ্রাম পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে।