• ক্যাম্পাস
  • স্কুলে ভর্তিতে ক্যাচমেন্ট এলাকা: শিশুর শৈশব ফিরিয়ে দিতে জোনিং পদ্ধতিই একমাত্র পথ

স্কুলে ভর্তিতে ক্যাচমেন্ট এলাকা: শিশুর শৈশব ফিরিয়ে দিতে জোনিং পদ্ধতিই একমাত্র পথ

লটারি ও ভর্তি পরীক্ষার চাপ থেকে শিশুদের বাঁচাতে উন্নত বিশ্বের আদলে এলাকাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষাবিদদের।

ক্যাম্পাস ১ মিনিট পড়া
স্কুলে ভর্তিতে ক্যাচমেন্ট এলাকা: শিশুর শৈশব ফিরিয়ে দিতে জোনিং পদ্ধতিই একমাত্র পথ

বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি বর্তমানে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। লটারি, জাল ঠিকানা আর অভিভাবকদের তীব্র দুশ্চিন্তার মাঝে পিষ্ট হচ্ছে শিশুদের শৈশব। এই সংকট নিরসনে এবং উন্নত বিশ্বের আদলে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘ক্যাচমেন্ট এলাকা’ বা জোনভিত্তিক ভর্তি নীতি কার্যকর করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ২০২৭ সাল থেকে ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের চেয়ে এলাকাভিত্তিক পয়েন্ট সিস্টেম শিশুদের মানসিক চাপ কমাতে এবং যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়াটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত অমানবিক হয়ে উঠেছে। প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ আসনের বিপরীতে এই ভর্তি যুদ্ধে লটারি বা ভর্তি পরীক্ষার নামে শিশুদের ওপর অকাল চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সম্প্রতি শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা দাবি তুলেছেন যে, ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা এলাকাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করাই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান।

বর্তমান ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব বর্তমানে ঢাকায় ৪০ শতাংশ আসন ক্যাচমেন্ট এরিয়ার জন্য বরাদ্দ থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। অনেক অভিভাবক ভুয়া ঠিকানা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে সন্তানদের নির্দিষ্ট কিছু ‘এলিট’ স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করেন। এর ফলে ছোট ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় এবং কোচিং সেন্টারের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটে। সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৭ সালে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালুর যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা শিশুদের শৈশবকে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে পাবলিক স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে কঠোরভাবে ‘রেসিডেন্সি জোন’ বা ক্যাচমেন্ট এরিয়া অনুসরণ করা হয়। এসব দেশে শিশুদের কোনো লটারি বা ভর্তি পরীক্ষার ভলয় থাকে না। তারা নির্দিষ্ট জোনের ম্যাপ অনুযায়ী নিকটস্থ স্কুলেই ভর্তি হতে পারে। এতে শিশুরা হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক এবং শহরের যানজট কমাতে সহায়ক।

সমাধান: পয়েন্ট ভিত্তিক ক্যাচমেন্ট সিস্টেম বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাব করছেন যে, কেবল নামমাত্র কোটা নয়, বরং শতভাগ আসন ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ভিত্তিতে বরাদ্দ করা উচিত। এক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, এনআইডি এবং স্থায়ী বাসের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ১০০ পয়েন্টের একটি স্কোরিং সিস্টেম চালু করা যেতে পারে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা বেশি পয়েন্ট পাবেন এবং মায়ের নামে নথি থাকলে অতিরিক্ত পয়েন্টের বিধান রাখা যেতে পারে।

সরকারের প্রতি সুপারিশসমূহ ১. প্রতিটি স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়ার স্পষ্ট ম্যাপ অনলাইনে প্রকাশ করা। ২. স্থায়ী বাসিন্দার সংজ্ঞা আইনগতভাবে সুনির্দিষ্ট করা। ৩. স্বচ্ছ পয়েন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। ৪. সকল স্কুলের অবকাঠামো ও শিক্ষার মান সমান করা যাতে বিশেষ কিছু স্কুলের প্রতি মোহ কমে।

উপসংহার লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা শিশুদের ভাগ্যকে অনিশ্চিত করে তোলে। ক্যাচমেন্ট এলাকা নীতি কার্যকর হলে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হবে, কোচিং ব্যবসা বন্ধ হবে এবং অভিভাবকরা মানসিক প্রশান্তি পাবেন। শিশুদের শৈশব রক্ষা এবং একটি মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে এখনই এই নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

Tags: bangladesh child psychology education reform education school admission catchment-area