• বিনোদন
  • স্মৃতিতে কবি আবিদ আজাদ: ‘তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে, রেলগাড়ি থামে’?

স্মৃতিতে কবি আবিদ আজাদ: ‘তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে, রেলগাড়ি থামে’?

সত্তর দশকের শ্রেষ্ঠ কবি আবিদ আজাদের প্রয়াণ দিবসে তার বর্ণাঢ্য সাহিত্যিক জীবন ও ব্যক্তিগত স্মৃতির প্রতিফলন।

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
স্মৃতিতে কবি আবিদ আজাদ: ‘তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে, রেলগাড়ি থামে’?

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান ও আধুনিক কবি আবিদ আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৫ সালের এই দিনে মাত্র ৫২ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ‘ঘাসের ঘটনা’ থেকে শুরু করে ‘কে যেন ধানের কথা বলে’—তার কাব্যযাত্রা ছিল যেমন বিষণ্ণ, তেমনি বিদ্রোহ ও আর্তি মেশানো। তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আজও আবেগাপ্লুত হন গুণমুগ্ধরা। শিল্পতরু প্রকাশনা থেকে শুরু করে বিটিভির ‘বইপত্র’ অনুষ্ঠান, আবিদ আজাদের বর্ণাঢ্য সাহিত্যজীবন আজও দীপ্যমান।

বাংলা সাহিত্যের সত্তর দশকের অন্যতম প্রধান কবি আবিদ আজাদ। তার কাব্যভাষা যেমন ছিল স্নিগ্ধ, তেমনি প্রতিবাদের ভাষায় তিনি ছিলেন আপসহীন। ২০০৫ সালের ২২ মার্চ তার প্রয়াণের পর বাংলা সাহিত্যে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হলেও তার অমর পঙ্ক্তিগুলো আজও পাঠকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।

ব্যক্তি ও সাহিত্যিক আবিদ আজাদ আবিদ আজাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লেখক শান্তা মারিয়া তুলে ধরেন কবির অমায়িক ও আড্ডাপ্রিয় রূপটি। কবির নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা এবং সাহিত্য পত্রিকা ‘শিল্পতরু’ ছিল আশির ও নব্বই দশকের লেখকদের মিলনমেলা। পান্থপথের সেই অফিস এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদপুরের বাসভবনে গভীর রাত অবধি চলত সাহিত্যের আড্ডা। কবির হাস্যরসের ক্ষমতা ছিল অসাধারণ, যা অনেক কঠিন সময়েও তার চারপাশের মানুষকে উজ্জীবিত রাখত।

টিভি অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ২০০০ সাল থেকে বিটিভিতে ‘বইপত্র’ নামে একটি জনপ্রিয় বই বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন আবিদ আজাদ। সেই অনুষ্ঠানের সহকারী উপস্থাপক হিসেবে যুক্ত ছিলেন সিরাজুল ইসলাম মুনীর এবং শাকিল রিয়াজ। মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রামপুরা টিভি ভবনে যাতায়াত এবং দীর্ঘ মেকআপ রুমের আড্ডায় কবির সাহিত্যিক অন্তর্দৃষ্টি ফুটে উঠত। তার বড় ছেলে তাইমুর রশীদও এই জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে সাংবাদিকতায় প্রতিষ্ঠিত।

কাব্যের জাদুকর ও অমর সৃষ্টি আবিদ আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঘাসের ঘটনা’ তাকে সমসাময়িক কবিদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে চিনিয়েছিল। তার কবিতায় ছিল গভীর বিষাদ ও নিভৃত এক জগত। ‘এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি’র মতো দ্রোহের কবিতা যেমন তিনি লিখেছেন, তেমনি ‘তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে, রেলগাড়ি থামে?’ পঙ্ক্তির মাধ্যমে তিনি রোমান্টিকতা ও বাস্তবতার এক অদ্ভুত মিশেল ঘটিয়েছেন। ২০০৪ সালে অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি লিখে গেছেন তার অনবদ্য কাব্যগ্রন্থ ‘কে যেন ধানের কথা বলে’।

পুরস্কার ও অবমূল্যায়ন আবিদ আজাদের মতো শক্তিমান কবি জীবদ্দশায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে সাহিত্য অঙ্গনে। লবিং বা কোনো ধরনের অনুকম্পার ধার ধারতেন না বলে এই পুরস্কার থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে মনে করেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা। তবে পাঠকদের কাছে তিনি যে উচ্চতায় আসীন, তার কাছে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নগণ্য বলেই মনে করেন অনুরাগী মহল।

শেষ বিদায় ও উত্তরাধিকার দীর্ঘদিন অ্যাজমা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে লড়াই করে ২০০৫ সালে বিদায় নেন এই মহাপ্রাণ কবি। তার প্রয়াণ দিবসে আজ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাকে স্মরণ করছে সাহিত্যপ্রেমীরা। তার সৃষ্টিরাশিই তাকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল অমর করে রাখবে।

Tags: death anniversary bengali literature bengali-poetry abid azad shilpotaru bangladeshi poet