ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা নিয়েছে। রোববার ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় পুরো ইসরায়েলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সতর্কতা জারি ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, ইরান থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আইডিএফ জানায়, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। জেরুজালেমসহ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমের ভাষ্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, ইসরায়েলের ওপর নতুন পর্যায়ের এই হামলা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই হামলাকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইডিএফ সতর্কবার্তা দেওয়ার পরপরই বিস্ফোরণগুলো ঘটে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার শব্দ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা আরও জানায়, ইরানের ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৭৭৩টি ড্রোন এবং কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার শঙ্কা এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানি হামলার জেরে জেরুজালেমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই সরাসরি সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।