ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে তুরস্কের পক্ষ থেকে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তুর্কি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান রোববার মিশর, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছেন।
শান্তি ফেরাতে তুরস্কের সক্রিয়তা হাকান ফিদান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও পৃথকভাবে কথা বলেন। যদিও এসব ফোনালাপের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংঘাতের দ্রুত অবসানই ছিল মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব মার্চের শুরু থেকে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। এই পথটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়।
উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে ইরান এই পথটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এছাড়া জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নৌ-বীমার খরচও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তুরস্ক মনে করছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে। এই আশঙ্কা থেকেই আঙ্কারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে।