নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এলাকার দুই যুবক ইয়ামিন এবং উজ্জ্বল বিশ্বাস শখের বশে মোটরসাইকেলে করে সমুদ্র ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। গন্তব্য ছিল পর্যটন নগরী কক্সবাজার। তবে ঘাতক বাস তাদের সেই যাত্রাকে চিরদিনের জন্য থামিয়ে দিয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও পটভূমি পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনে ব্রিজের সংস্কার কাজ চলছিল। ব্রিজের আগের স্পিডব্রেকারে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে যাওয়ার সময় পেছন থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে চালক ও সহকারীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষ মহাসড়কে বাসের জটলার পেছনেই ছিল ইয়ামিন ও উজ্জ্বলের মোটরসাইকেলটি। কিছু সময় পরই বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকা যানজটের ওপর তুলে দেয়। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধুসহ মোট তিনজন নিহত হন।
নিহতদের পরিচয় নিহত ইয়ামিন রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সিংলাবো এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয় গাউসিয়া মার্কেটের স্টার টেইলার্সের মালিক ছিলেন। অন্যজন উজ্জ্বল বিশ্বাস আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা, যিনি একটি জুতা কারখানায় কাজ করতেন এবং সিংলাবো এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, বেপরোয়া গতির কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রূপগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. সাবজেল হোসেন জানান, মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার চাইলে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। বর্তমানে আহত ১১ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।