শিক্ষাখাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন।
জুলাই বিপ্লবের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা শিক্ষামন্ত্রী জানান, জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ভার সরকার গ্রহণ করবে। এই বিশেষ নির্দেশনার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সন্তানরা স্নাতক বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। মূলত বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও নির্বাচনী অঙ্গীকার সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে।
প্রযুক্তি ও মেধা বিকাশে নতুন প্রকল্প শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের সকল শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাসরুমে মাল্টিমিডিয়া সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে 'গণিত অলিম্পিয়াড' এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে 'বিতর্ক প্রতিযোগিতা' ও 'বিতর্ক ক্লাব' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভাষা ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার নতুন পরিকল্পনায় বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া হাফেজে কুরআনদের বিশেষ সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থাসহ পরিবেশ সুরক্ষায় 'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি' কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, সরকারের এই ১৮০ দিনের কর্মসূচি শিক্ষা খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে যা তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।