মোট ৫টি লটে এই ভোজ্যতেল সংগ্রহ করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
এর মধ্যে ৬ কোটি ৫ লাখ লিটার ক্রয়ের চুক্তি হয়েছে, ৭ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার লিটারের জন্য নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে ৫টি লটে ১ কোটি লিটার পাম অয়েল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে (সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ) টিসিবির প্রায় ১ কোটি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির লক্ষ্যে এ তেল সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি লটে ২০ লাখ লিটার করে মোট ৫টি লটে ২ লিটার পেট বোতলে পাম অয়েল কেনা হবে।
উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সাধারণত দরপত্র প্রণয়ন ও দাখিলের জন্য ন্যূনতম ২৮ দিন সময় থাকলেও ২০১৪ সালের ৪ জুন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টিসিবির ক্ষেত্রে তা ১৪ দিনে নির্ধারণ করা হয়।
এই সুবিধার মেয়াদ প্রথমে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত থাকলেও পরে ২০২৫ সালের ২৭ মে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় তা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টিসিবির মাসিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল প্রয়োজন হয়। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক উৎস থেকে লটভিত্তিক ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে একাধিক সরবরাহকারী অংশ নিতে পারে।
২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়।
এতে ৫টি লটে মোট ১৬টি দরপত্র জমা পড়ে—১ নম্বর লটে ৩টি, ২ নম্বর লটে ৩টি, ৩ নম্বর লটে ৪টি, ৪ নম্বর লটে ৩টি এবং ৫ নম্বর লটে ৩টি। দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ কমিটি প্রতি লিটার ১৭০.৮৪ টাকা (অগ্রিম আয়কর ও পরিবহন খরচসহ) নির্ধারণ করে, যা মূল্যায়ন কমিটি যথাযথ বলে বিবেচনা করে। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন সভায় সব দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
মূল্যায়নে দেখা যায়, ৫টি লটেই রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নির্বাচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি লিটার ১৬৩.৪৮ টাকা দরে পাম অয়েল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়।